মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

তালতলীতে ক্ষেতেই নষ্ট তরমুজ,পথে বসেছে চাষী হারুন

তালতলীতে ক্ষেতেই নষ্ট তরমুজ,পথে বসেছে চাষী হারুন

 মল্লিক মো.জামাল,বরগুনা প্রতিনিধিঃবরগুনার তালতলীতে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে তরমুজ।পথে বসতে চলছে চাষী হারুন। তার গত বছরের চেয়ে এই বছর তরমুজ চাষে ভালো ফলনে আশায় বুক বেঁধেছিলেন তিনি। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারনে তরমুজ  ক্রয় করতে আসেনি পাইকারা। এদিকে বৃষ্টির কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে তরমুজ। তাই বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় পথে বসছে তিনি।
জানা যায় উপজেলার কবিরাজ পাড়া এলাকার চাষী হারুন অর রশিদ বিভিন্ন এনজিও,ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ও স্থানীয়  রাখাইনের জমি নগতটাকা দিয়ে ৮ একর জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেন। প্রতিদিনই তরমুজ ক্ষেতের পরির্চচা করেন তিনি। এর পরে ক্ষেতে গত বছরের চেয়ে ভালো ফলনও ধরেন। চাষী হারুনের মুখে আনন্দের হাসি থাকার কথা থাকলেও দেশে চলমান করোনা ভাইরাসের কারণে সঠিক সময় তরমুজ বিক্রি না করতে পেরে মুখে হাসির পরিবর্তে রয়েছে বিষন্নতার ছাপ। একদিকে আসছে না তরমুজ পাইকারীরা অন্যদিকে লকডাউনের কারনে সাপ্তাহিক ও দৈনিক হাটগুলোতে নেই খুচরা ক্রেতারা। আর বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটের যোগাযোগের খুবই বেহাল। ঋণ বোঝা মাথায় নিয়ে পথে বসতে চলেছেন তরমুজ চাষী হারুন। এতে করে তার পরিবারেও চলছে হাহাকার।
বুধবার ২৯ এপ্রিল দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,হারুন অর রশিদের ৮ একরের জমিতে তরমুজের ক্ষেতে পাকা তরমুজগুলো নষ্ট হতে চলছে। অসময়ে বৃষ্টি আর করোনা ভাইরাসের কারনে সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারার পাঠেই তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এলাকাবাসী বলেন হারুন প্রতি বছরই এই তরমুজ চাষ করে আসছে কিন্তু প্রতি বছরের চেয়ে এ বছর তরমুজের ভালো ফলন ছিলো। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টি আর করোনার কারনো লকডাউন চলাকালে তার তরমুজ বিক্রি না করতে পেরে এবার খুব ক্ষতি হয়েছে তার। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ যাতে চাষী হারুন কিছুটা হলেও সচ্চ ভাবে ফিরতে পারে।
চাষী হারুন অর রশিদ কান্না জনিত কন্ঠে বলেন বিভিন্ন যায়গা থেকে ঋণ নিয়ে ৮ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম। এখন করোনা ভাইরাসের কারণে তরমুজ বিক্রি করতে না পেরে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় আছি। এখন নতুন করে বৃষ্টির কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরমুজ। তাই পরিবার নিয়ে এখন পথে বসতে হচ্ছে। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ যাতে ক্ষেতে যা তরমুজ আছে সে গুলো তাদের যাতে বিক্রি করতে পারি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম মীর বলেন চাষী হারুন এখন পথে বসে গেছে। ওর সব কিছু দিয়েই এই তরমুজ চাষ করছিলো। ফলোনও ভালো হয়েছিলো। এখন করোনা ভাইরাস ও বৃষ্টির কারনে ক্ষেতেই তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছ্
েতালতলী কৃষি অফিসার আরিফুর রহমান বলেন,ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার রির্পোট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে ও তাকে সরকারীভাবে সাহায্য করা হবে। আর ক্ষেতে যে তরমুজ আছে সে গুলো বিক্রির জন্য সহযোগিতা করা হবে।
এবিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো, আসাদুজ্জামান বলেন,তরমুজ চাষী হারুন অর রশিদের পাশে উপজেলা প্রশাসন দাড়াবে । যতে করে সে তার ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি করতে পারে। এছাড়াও তাকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com