মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা বিদেশ ফেরত ৪৮৫ জনকে

গাইবান্ধায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা বিদেশ ফেরত ৪৮৫ জনকে

এইচ আর হিরু গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধায় গত মার্চ মাসে বিদেশ ফেরত ৪৮৫ জনকে এখনো খুঁজে পাচ্ছে না গাইবান্ধা পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। শুধু তাই নয়, ৩০ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ দিনে একজনকেও খুঁজে পায়নি তারা। সেসব বিদেশ ফেরতদের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকলে ভাইরাসটি আরও অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। তাই বিদেশ ফেরতদের তথ্য জনপ্রতিনিধি, ইউএনও এবং ওসিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের যে কাউকেই জানাতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, গত ১ মার্চ থেকে বিদেশ ফেরত ৯২৯ জন ব্যক্তি গাইবান্ধার সাত উপজেলার নিজ বাড়ীতে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৪৪৪ জনকে খুঁজে পাওয়া গেছে। খোঁজ না পাওয়া ৪৮৫ জনকে এখনো খোঁজা হচ্ছে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্যাচমেন্ট এলাকায় সম্প্রতি বিদেশ ফেরত কেউ থাকলে তাদের খোঁজ দিতে গত ২১ মার্চ গাইবান্ধার জাতীয় তথ্য বাতায়নে জেলা প্রশাসন একটি নোটিশ দিয়েছে। ওই নোটিশে বিদেশ ফেরতদের তথ্য ইউএনও, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং থানার ওসিদের জানাতে বলা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন তাদের জনবল ও সোর্স দিয়ে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের স্বাস্থ্য কর্মীদের দিয়ে খুঁজছে বিদেশ ফেরতদের। এছাড়া আরও অন্যান্য উপায়ে সন্ধান চলছে বিদেশ ফেরত মানুষদের। অনেক বিদেশ ফেরত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাচ্ছেন। আবার প্রতিবেশিরা কেউ কেউ বিদেশ ফেরতদের তথ্য দিচ্ছেন। এতো চেষ্টার পরেও এখনো গাইবান্ধায় গত মার্চ মাসে বিদেশ ফেরত ৪৮৫ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এসব বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরা কি অবস্থায় আছেন তা জানা নেই কারোরই।
অপরদিকে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৫ জন। তাদের মধ্যে সদর উপজেলার তিনজনকে ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একজনকে সরকারি দুইটি হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে এবং সাদুল্লাপুর উপজেলার আরেকজনকে বাড়ীতে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১৭৩ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন একজন। বিদেশ ফেরতদের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ তথ্য সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।
গাইবান্ধা যুব নাগরিক কমিটির আহবায়ক জিয়াউল হক জনি বলেন, গাইবান্ধায় গত ২২ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মা ও ছেলে। তারপর অজ্ঞাতবশত মরণব্যাধী এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে মা ও ছেলের সংস্পর্শে আসা আরও তিনজনের শরীরে। তাই বিদেশ ফেরত যাদেরকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি তাদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত থাকলে ভাইরাসটি অন্যদের মধ্যে ছড়ানোর আশংকা রয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ বলেন, বিদেশ ফেরত যাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তারা যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে লুকিয়ে আছেন আমরা এমনটা মনে করছি না। কারণ মানুষ এখন নিজেরাই আমাদেরকে খবর দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জেলা করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি এবং গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, বিদেশ ফেরতদের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সোর্স লাগিয়ে কাজ করছে। মোবাইল ট্রাকিং করে তাদের খোঁজ করা হচ্ছে। অনেকেই তাদের নিজ এলাকায় না গিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছেন। যার কারণে তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, যাদেরকে খুঁজে পাওয়া গেছে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বিদেশ ফেরতদের তথ্য প্রশাসন বা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাতে বলেন জেলা প্রশাসক।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com