মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে গুটিকয়েক চেয়ারম্যান জনগণের পাশে অন্যদের খবর নেই

লক্ষ্মীপুরে গুটিকয়েক চেয়ারম্যান জনগণের পাশে অন্যদের খবর নেই

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর জেলায় ৫৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ১৮ জন চেয়ারম্যান করোনা সচেতনতায় শুরু থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন। অন্যদের খবর নেই তারা কি ঘুমিয়ে আছেন না পালিয়ে গেছেন না মারা গেছেন কেউ তাদের দেখতে পায়না। তারা আগে গাছে গাছে পোস্টার-ফেস্টুন লাগিয়ে নেতাদের আস্ফালন করতে সক্রিয় ছিলেন কিন্তু এখন তারা মাঠে-ময়দানে কোথাও নেই এমনকি পরিষদেও বসেন না। ৩ টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ৪ টি পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলদের অধিকাংশ গাছাড়া ভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে ।
এদেরমধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, পৌরসভার মেয়র আবু তাহের, সদরের উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু, কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ বাপ্পি ও রায়পুরের ভাইস চেয়ারম্যান এ বি এম মারুফ বিন জাকারিয়া করোনা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে শুরু থেকেই হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট, বাসা-বাড়িতে প্রচার-প্রচারণা করছেন। তারা সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়দের বাড়ি বাড়ি চাল, ডাল, আলুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।
লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির পাটওয়ারী, উত্তর হামছাদির চেয়ারম্যান এমরান হোসেন নান্নু, লাহারকান্দির চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন মুশু পাটওয়ারী, চন্দ্রগঞ্জের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল, তেওয়ারীগঞ্জের চেয়ারম্যান ওমর হোসাইন ভুলু, কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ রতন, চরকাদিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, রামগতির বড়খেরির চেয়ারম্যান হাসান মাকছুদ মিজানসহ ১৮ জন শুরু থেকেই করোনা প্রতিরোধে কাজ করছেন।
রায়পুরে ১০ জনসহ রামগঞ্জ, সদর, রামগতি ও কমলনগরের মোট ৪০ জন ইউপি চেয়ারম্যানরা রহস্যজনক ভূমিকায় রয়েছে। নিয়ম রক্ষার কাজ করে দায় সারছেন তারা। করোনা রোধে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়নি অনেক ইউনিয়নে। এদিকে সচেতনতার অভাব ও ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে হাট-বাজার, রাস্তাঘাটে জনসমাগম বাড়তে শুরু করেছে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও পুনরায় জনসমাগম আর আড্ডায় বসে মানুষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের শীর্ষ স্থানীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার লক্ষ্মীপুরে কর্মরত একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিরা এখন জনগনকে সতর্ক করে সাহসী ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু তারা গা ছাড়া মনোভাব নিয়ে করোনা সংকটে শুরু থেকে রহস্যজনক ভূমিকায় আছে। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ওইসব জনপ্রতিনিধিদের তালিকা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের কার কি ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছে। সার্বক্ষনিক গুরুত্ব দিয়ে করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com