বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

বরগুনার আমতলীতে জোড়পূর্বক ঘর দখলের অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

বরগুনার আমতলীতে জোড়পূর্বক ঘর দখলের অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

 মল্লিক মো.জামাল,বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলী পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের ওয়াবদা এলাকার মৃত্যু আবদুল জলিল খলিফার পুত্র মোঃ আবু জাফর তার বাসার ভাড়াটিয়া সৌদি প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের স্ত্রী তানজিলা বেগমের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় আমতলী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ আবু জাফর অভিযোগ করেন, আমার ভাড়াটিয়া তানজিলা বেগম আমার আপন খালাতো বোন ও বসত ঘরের ভাড়াটিয়া। ২০১৬ সালে আমার মা মোসাঃ আফরোজা খানমের সুপারিশে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাড়া মৌখিক চুক্তিতে আমার নিজের বসত ঘরের এক অংশ আমার খালা শেফালী বেগমের মেয়ে খালতো বোন তানজিলাকে ভাড়া দেই। পরবর্তীতে খালাতো বোন তানজিলার বিয়ে হলে স্বামী খায়রুল ইসলাম লিটন মাতুব্বর স্থায়ী থাকা ও বসতঘর তৈরী করার জন্য জমি কেনার ইচ্ছা পোষন কর। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর আমার পৈতৃক সম্পত্তি ঘটখালী মৌজার এসএ ৫১৮/৫১৮(১) খতিয়ানের ১৯৭৫ নং দাগ থেকে ৬ শতাংশ জমি চৌহদ্দি দিয়ে আমার বসতঘরের পিছন থেকে খালাতো বোন ভাড়াটিয়া তানজিলার কাছে বিক্রি করি। কিন্তু তানজিলা দলিলে উল্লেখিত জমিতে না গিয়ে জোরপূর্বক আমার বসতঘর (ভাড়া দেয়া অংশ) তার দাবী করে চার বছর ধরে দখল করে আছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, আমার বসতঘর দখল ও ঘরভাড়া না দেয়া ও ঘর ছাড়ার জন্য ভাড়াটিয়া তানজিলাকে বললে সে ঘর না ছেড়ে উল্টো গত ৭/১০/১৮ইং তারিখে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আমার বিরুদ্ধে টাকা ও সোনা লুটের মিথ্যা অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর আমিও গত ৪/১২/২০১৮ ইং তারিখে একই আদালতে ঘরভাড়ার টাকা ও ঘর জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগে ভাড়াটিয়া তানজিলার বিরুদ্ধে পল্টা একটি মামলা দায়ের করি। বিচারক দুটো মামলা আমলে নিয়ে সরজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পর্যায়ক্রমে সহকারী কমিশনার (ভূমি), পৌর মেয়র ও চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান কাছে প্রেরণ করেন। আমার দেয়া মামলা সত্য প্রমাণিত হওয়ায় চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাদল খান আমার পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আর ভাড়াটিয়া তাজিলার দেয়া মামলার বিষয়বস্তু মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতে প্রতিবেদন দিলেও সে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তানজিলা আদালতে নারাজি দিয়েছেন। পরে আদালত পৌর মেয়রকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বললে সেখানেও সে আদালতে নারাজি দিয়েছেন। সর্বশেষ আদালত থেকে উভয়পক্ষের ৬ জন আইনজীবীকে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়ার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে গত (৩১ মার্চ) মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ কোন কারন ছাড়াই অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করার জন্য আমার ভাড়াটিয়া খালাতো বোন তানজিলা, ওর ননদ বিউটি বেগম, ভাগ্নি তানিয়া, দেবর কামাল ও তার চাচা জাকির মিলে আমাকে ও আমার মা আফরোজা বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতে থাকে। এসময় আমার নানী মোসাঃ রাবেয়া বেগম ও ছোট খালা কল্পনা বেগম এর প্রতিবাদ করতে গেলে তানজিলাসহ উল্লেখিত লোকজন ছোট খালা কল্পনাকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে তার হাতে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তিনি আমতলী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় আছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত আবু জাফরের বৃদ্ধ নানী রাবেয়া বেগম বলেন, আমার নাতি তানজিলা জোর করে আমার অপর নাতি আবু জাফরের ঘর জোরপূর্বক দখল করে রাখছে।
আহত খালা কল্পনা বেগম বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে আমার ভাগ্নী তানজিলা, ওর ননদ ও দেবর জাকিরসহ ৪/৫ জন মিলে কোন কারন ছাড়াই আমার বোন আফরোজা বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকে ওরা শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে ও আমার হাত কামড়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনাটি স্থাণীয় প্রতিবেশী রফিক মল্লিক, আঃ সোবাহান মিয়া, হুমায়ূন কবিরের স্ত্রী আয়েশা বেগমসহ অনেকেই দেখেছেন। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া খালাতো বোন তানজিলা বেগম মুঠোফোনে বলেন, আমি আমার খালাতো ভাইর কাছ থেকে ঘরসহ জমি ক্রয় করে সেখানে বসবাস করি। খালাকে আমরা শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করিনি, উল্টো খালাসহ তার লোকজন আমাকে মেরে আহত করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আবু জাফরের নানী মোসাঃ রাবেয়া বেগম, মা মোসাঃ আফরোজা খানম, খালা মোসাঃ কল্পনা বেগম, ভাই মোঃ বেল্লাল হোসেন।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com