বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধায় মাঠ পর্যায়ে নেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা

গাইবান্ধায় মাঠ পর্যায়ে নেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা

গাইবান্ধায় মাঠ পর্যায়ে নেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা
এইচ আর হিরু গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধার জেলা সদর সহসাদুললাপুর,পলাশবাড়ী,সাঘাটা,ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত কর্মস্থলে না এসেই বেতন তুলে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা কিংবা ফসলের রোগ-বালাইবা কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো কাজ না করেই নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন।
জানা যায়, সরকার কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে উচ্চ ফলনের লক্ষ্যে দেশের প্রত্যেক উপজেলা সহমাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। রোগ-বালাই প্রতিরোধ সহ কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলার ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্লক সৃষ্টি করে প্রতিটি ব্লকে একজন করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ সব কর্মকর্তা প্রতিমাসে পাচ্ছেন সরকারি তহবিল থেকে মোটা অংকের বেতন, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা সহ নানা সুযোগ-সুবিধা। জানা যায়, একসময় কৃষির চারণভূমি হিসেবে খ্যাতি ছিল এ জেলার কৃষকরা ইরি-বোরো সহ নানা প্রজাতির ধান/ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে এলাকার চাহিদা পূরণ করে অন্যত্র বিক্রি করত। কালের বিবর্তনে এ চিত্র এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। বিশেষ করে মাটির উর্বরতা নষ্ট এবং নানা পোকা-মাকড়ের আক্রমণের কারণে ভালো ফলন নাহ ওয়ায় কৃষকরা সোনালি ফসলের চাষে ক্রমে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বৃহৎ এ জেলার কৃষিউন্নয়ন ও অধিক ফলনের লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্লকে ২৫ জনকরে উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা রয়েছেন। কিন্তু কৃষকদেরসমস্যা, কৃষির নানা বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণের জন্য এসব কর্মকর্তাকে খুঁজে পান না এলাকার কৃষকরা, এমন অভিযোগ জেলার অধিকাংশ এলাকার কৃষকের। কাগজে-কলমে এসব কর্মকর্তা ব্লকেকর্মরত থেকে কর্মস্থলে না এসেই নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। জেলায় কর্মরত উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তাদের বেশির ভাগ থাকেন বাড়ীতে। মাঝে মধ্যে তারা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান।
এসব কর্মকর্তা একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে (সিন্ডিকেট) প্রতিদিন একজন ৩-৪ জনের ব্লক ঘুরে দেখেন। এভাবেই চলে ব্লক কর্মকর্তাদের সপ্তাহের দায়িত্ব পালন।
মনিল উদ্দিন নুরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তাদের দেখা দুই চার মাসে ও মেলেনা।তারা নিয়মিত ব্লকপরিদর্শন ও কৃষকদেরপরামর্শ প্রদান করেনা।
দিঘল কান্দি গ্রামের সুলতান মাহামুদ, আন্দুয়াগ্রামের আজিজুল ইসলাম একই অভিযোগ করে বলেন বিএসরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি কৃষি প্রনোদনা বিতরণ করে থাকেন।বছরে একবার ও দেখা মেলে না তাদের পরামর্শ তো দুরের কথা পেশাগত দায়িত্বপালনে গাফিলতি কৃষকদের সাথে যোগাযোগ না করা ও ঘরে বসে রিপোর্ট তৈরি বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষিঅফিসরা বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নপরিষদ কমপ্লেক্সে বিএসদের বসার স্থান রয়েছে।তারা নিয়মিত সেখানে অবস্থান করার কথা! এ ছাড়া ও বিভিন্ন ব্লকে গ্রুপ ওয়ারী পরামর্শ প্রদান করা হয়।একক ভাবে কৃষকের নিকট যাওয়ার কোন সুযোগ নেই!

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com