রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

কলকাতা শহরে অস্বাভাবিক মৃত্যু এক কিশোরীর।

কলকাতা শহরে অস্বাভাবিক মৃত্যু এক কিশোরীর।

কলকাতা শহরে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরীর। শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ বেলেঘাটার পুরনো সিআইটি বিল্ডিং আবাসনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান থেকে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখা যায় ওই কিশোরীকে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, গত বুধবার থেকে ওই কিশোরী নিখোঁজ ছিল। শুক্রবার তার পরিবারের লোকজন বেলেঘাটা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে যাওয়ার সময়ে জানতে পারেন, কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মৃতার নাম পিউ বিশ্বাস ওরফে বুচু (১৭)। আবাসনের পিছনে লেবুগোলা বস্তিতে তার বাড়ি। পাঁচ বোনের মধ্যে সে ছোট। একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পরে সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল। যে ফ্ল্যাট থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়, সেটি সুব্রত ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তির। পিউয়ের মা পুষ্পাদেবী ওই ফ্ল্যাটে পরিচারিকার কাজ করেন। বাবা দুলাল বিশ্বাস শুক্রবারই বেলেঘাটা থানায় খোদাগঞ্জ রোডের বাসিন্দা এক যুবকের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার ওই আবাসনে গিয়ে দেখা গেল, সুব্রতবাবুর ফ্ল্যাট তালাবন্ধ। বাসিন্দারা জানান, ওই ফ্ল্যাটের চাবি থাকে পুষ্পাদেবীর কাছে। কারণ, ফ্ল্যাটের মালিক সপরিবার হুগলির কুন্তিঘাটে থাকেন। প্রতিবেশীদের কয়েক জন জানান, পিউকে মাঝেমধ্যেই ওই ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেখা যেত। বুধবার সকালেও সে ওই ফ্ল্যাটে ঢুকেছিল। কিন্তু বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাকে পাড়ায় দেখা যায়নি।

এ দিন পিউদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তার মা ও দিদিরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। সেজ দিদি মিতা জানান, শুক্রবার বেলা একটা নাগাদ সুব্রতবাবু কুন্তিঘাট থেকে ফোনে জানতে চান, তাঁর ফ্ল্যাটে কেউ ঢুকেছে কি না। কারণ, প্রতিবেশীরা তাঁকে ফোন করে জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটে কাউকে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। রাতে আলো জ্বলতেও দেখা গিয়েছে। মিতা সুব্রতবাবুকে খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলেন।

মিতা জানান, ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে লোহার গ্রিলের দরজা রয়েছে। সেই দরজায় ভিতর থেকে তালা দেওয়া ছিল। গ্রিল বেয়ে ভিতরে ঢুকে তিনি দেখেন, মূল দরজা ভেজানো। ঘরে ঢুকে বোনকে গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখেন তিনি। পাড়ার লোকজন বেলেঘাটা থানার পুলিশকে খবর দেন।

সঞ্জয় শর্মা নামে এলাকার এক যুবক জানান, স্থানীয় খোদাগঞ্জ রোডের এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল পিউয়ের। মিতার অভিযোগ, ওই যুবক তাঁর বোনকে প্রায়ই মারধর করতেন। ওই যুবকের বিরুদ্ধে একাধিক বার থানায় অভিযোগও জানিয়েছেন তিনি। মিতা বলেন, ‘‘বাবা ওর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com