পোরশায় সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠ, আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নওগাঁর পোরশায় ফসলের মাঠ এখন সবুজের সমারোহ। আমন ফসলের মাঠগুলো যেন সবুজের বিছানা হয়ে দাড়িয়ে আছে। যতদুর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। চারিদিকে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। কৃষকের মনে দোলা দিচ্ছে এক ভিন্ন আমেজ।

চলতি বছর আমন মৌসুমে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দেখা দিয়েছে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে পোরশা উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে ১৫হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আমন চাষ করা হয়েছে ১৫হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলার বিভিন্ন আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত আমনের গাছ বেশ ভাল রয়েছে। আমনের ক্ষেতে তেমন কোন রোগ বালাই দেখা যাইনি। আমনের গাছ ভাল রাখতে আর ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকরা দিন রাত সমানতালে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ এলাকার কৃষকরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে দিন রাত যেন সমানতালে পরিশ্রম করে আসছেন। সবুজে ঘেরা আমনের মাঠ রেখে যেন এক মুহূর্তের জন্যেও বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই কৃষকদের।

কৃষকরা এখন ক্ষেতের পোকামাকড় দমন করতে ঔষধ স্প্রে করা, জমিতে পানি দেখাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। এখন যেন দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠছে আমনের গাছ। মাঠে মাঠে হাওয়ায় দুলছে আমন গাছের পাতা। আর আনন্দে দুলছে কৃষকদের মন। এবারে মাঠের ফসলে তেমন কোন রোগ বালাই না থাকায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন কৃষকরা। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান কৃষকরা।

উপজেলার নিতপুর ইউপির শোভাপুর গ্রামের সালামত আলী, তেঁতুলিয়া ইউপির সহড়ন্দ গ্রামের কৃষক রহমত আলী ও ছাওড় ইউপির বলদাহার গ্রামের কৃষক আউয়াল জানান, এ বছর আমন ক্ষেত এখন পর্যন্তু ভাল রয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আর তেমন কোন প্রকার রোগ বালাই না থাকার কারনে এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, এবারে তাদের লক্ষ মাত্রার অল্প কিছু কম জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। তবে ফলনে তা পুষিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফলন বাড়াতে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমনের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।