সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

সৈয়দপুরে ফুটপাত থেকে কোটি টাকা চাঁদা আদায়

সৈয়দপুরে ফুটপাত থেকে কোটি টাকা চাঁদা আদায়

সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নীলফামারী) ঃ নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা, সৈয়দপুর উপজেলা শহর হলেও দেশের অষ্টম বাণিজ্যিক শহরে খ্যাতি অর্জন করেছে দেশ জুরে। বিসিক শিল্পনগরী, রেলওয়ের বিশাল কারখানা ছাড়াও ছোট বড় মিলে প্রায় ৫০০ কলকারখানা রয়েছে এ শহরে। ফুটপাত বা বড় দোকানের সামনে ভ্রাম্যমান দোকান বসছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬ শতাধিক।

অভিযোগ রয়েছে ভ্রাম্যমান এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। কতিপয় ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে বসা দোকান থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া প্রভাবশালী ও প্রশাশনের কিছু সদস্যদের হাতে রাখতে ফুটপাতে বসা দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ দীর্ঘ দিনের।

অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৫০০ দোকান থেকে আদায় করা হয় প্রতিদিন ১ লাখ টাকা, মাসে ৩০ লাখ এবং বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। ফুটপাতের দোকান গুলোতে অথবা দোকানের সামনে রাস্থায় বসা ভ্রাম্যমান দোকান থেকে আদায় করা হচ্ছে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

ভ্রাম্যমান ব্যবসায়িরা বলছেন পেটের জ্বালা নিবারনের জন্যই অন্যের দোকানের সামনে ফুটপাতে অথবা রেল লাইনের পাশে বসে ব্যবসা করছেন তারা। এ ব্যবসায় কম পুজি দিয়ে ব্যবসা করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা ও চিকিৎসা করা হয় এর পরেও প্রভাবশালীদের প্রতিদিন নির্দিষ্টহারে চাঁদা দেওয়া কষ্টকর হয়ে পরে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনে ব্যবসায়ি বলেন তারা যেসব দোকানের সামনে অথবা ফুটপাতে দোকান লাগিয়ে ব্যবসা করছেন তারা প্রভাবশালীদের এক কালীন কিছু টাকা তুলে দেন। কখনো অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান চালানো হলে তারপর আবারও নতুন করে টাকা দিয়ে বসতে হয়। শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের পেটের ভাত যোগান দিতেই বাধ্য হয়ে অন্যের দোকানের সামনে অথবা ফুটপাতে বসে ব্যবসা করছেন তারা।

রেল লাইনের পাশ ঘেসে অবৈধ দোকান পাট রয়েছে প্রায় ৪০০টি। এসব দোকান থেকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কোথাও দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। একটিকে ফুটপাতে বসতে চাঁদা আদায়, অন্যদিকে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা দোকান গুলোতে অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

ব্যবসায়িরা বলছেন সাপ্তাহিক বা মাসিক হারে তারা কাউকে না কাউকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করছেন। তারা ওইসব স্থানে ব্যবসা করতে গিয়ে টাকা দিচ্ছেন আবার প্রায় সময় হয়রানিও হচ্ছেন। নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারছেন না। তারা বলছেন সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করতে চান। প্রভাবশালীকে চাঁদা দিয়ে নয় এজন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।

অন্যদিকে বাসা বাড়ী থেকে ময়লা অপসারনের জন্য পৌর পরিশোধ থেকে কোন টাকা নয়ার নির্দেশনা না থাকলেও পৌরসভার ১৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ৫/৬ টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫০০ পরিবারের কাছথেকে প্রতিমাসে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানিয়দের।

সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র জিয়াউল হক জিয়া বলেন মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার সদ্য মৃত্যু বরন করেছেন বলে হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন মেয়র না আসা পর্যন্ত কোন প্রকার সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com