রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫০ অপরাহ্ন

কুমিল্লা দেবীদ্বারে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স নির্মাণ কল্পে মুক্তিযোদ্ধা ও সূধী সমাবেশ

কুমিল্লা দেবীদ্বারে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স নির্মাণ কল্পে মুক্তিযোদ্ধা ও সূধী সমাবেশ

এ,আর,আহমেদ হোসাইন
(দেবীদ্বার-কুমিল্লা)প্রতিনিধি: ৭১’র-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের ‘নলআরা’য় প্রতিষ্ঠিত অস্থায়ী মুক্তিযুদ্ধ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স নির্মাণ কল্পে মুক্তিযোদ্ধা ও সূধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।সোমবার সকাল ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ফতেহাবাদ গ্রামের মোকামবাড়ি ঈদগাহ মাঠে ওই মুক্তিযোদ্ধা ও সূধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশের শুরুতে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পূষ্পর্ঘ্য অর্পণ করেন, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যাক্তিবর্গ।

উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল’র সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম মিঠু মূন্সী ও মোঃ মুখলেসুর রহমান সরকার’র সঞ্চালনায় উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ জয়নুল আবেদীন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাহিদা আক্তার, উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নাজমা বেগম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’র সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধ কাজী আব্দুস সামাদ, আলোচক হিসেবে ছিলেন, ফতেহাবাদ ইউনিয়ন কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুল খালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সুলতান আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার এম,এ সালাম, আ’লীগ ফতেহাবাদ ইউপি সভাপতি মোঃ মফিজুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান মাসুদ, সাংবাদিক, রাজনীতিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সাংবাদিক মমিনুর রহমান বুলবুল, মোঃ এনামুল হক, মোঃ হাসান প্রমূখ।
আলোচকরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের জমাদার বাড়ি সংলগ্ন ‘নল আরা’য় (গভীর জঙ্গলে) অস্থায়ী মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষন ক্যাম্প’ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী-পরিষদ সচিব সফিউল আজমের একান্ত সচিব আবদুল মান্নান সরকারের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ থেকে প্রায় ৪/৫ শত মুক্তিকামী জনতা নিয়ে এয়ারগান আর লাঠি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষন শুরু করেন এবং ওই প্রশিক্ষন শিবিরের প্রশিক্ষক ছিলেন সেনাবাহিনীর (অবঃ) আবু মিয়া এবং মুকবল আহমেদ।
ভারতের সীমান্ত এলাকা সন্নিকটে থাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সীমান্ত পাড়াপাড়ে যেমন সহজ ছিল, তেমনি তৎকালিন পূর্বপাকিস্তানের প্রধান সেনাছাউনী ময়নামতি ক্যান্টনম্যান্ট সন্নিকটে থাকায় মারাত্মক ঝুকিতে ছিলেন এ এলাকার মানুষ। মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ ও নির্জন এলাকা হওয়ায় ওই ‘নলআরা’ নামক গভীর জঙ্গল’টিকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন ক্যাম্প হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন স্থানীয় মুক্তি যোদ্ধারা। এখান থেকে প্রাথমিক প্রশিক্ষন শেষে ত্রীপুরা রাজ্যের বক্সনগর, আগড়তলার পালাটোনা ক্যাম্প, আসামের তেজপুর ও লোহারবন প্রশিক্ষন শিবিরে যোগদান করতেন। রাজাকাররা সক্রিয় হওয়ায় পরবর্তীতে অস্থায়ী প্রশিক্ষণ শিবিরটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়।

২০১০সালে ওই স্থানে জমি অধিগ্রহনপূর্বক স্মৃতি ফলক ও কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিলে, ২০১২সালে সাবেক মন্ত্রী এমপি এবিএম গোলাম মোস্তফা ওই স্থানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের মধ্যদিয়েই ওই বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। আর কিছুদিন পরেই আমারা স্বাধীনতার ৫০বছর পূর্তী অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছি। ওই অনুষ্ঠানের পূর্বে এখানে একটি স্মৃতিফলক ও একটি কমপ্লেক্স নির্মানের লক্ষে কি পরিকল্পনা নেয়া যায় সে বিষয়েই আলোকপাতের জন্যই আজকের এ সভা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ জয়নুল আবেদীন বলেন, আগামী প্রজন্মের হাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতিগুলো পরিচয় করিয়ে দিতে এখানে স্মৃতি স্তম্ভ ও মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com