বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

জামিন জালিয়াতি চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩

জামিন জালিয়াতি চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩

আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের কাগজ পত্রাদি জাল-জালিয়াতি করে জামিন করানো প্রতারক চক্রের মূলহোতা মোঃ দেলোয়ার হোসেনসহ তার অপর দুই সহযোগী এবিএম রায়হান ও মোঃ শামীম রেজাকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার রংপুর জেলার পীরগাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণ ইউনিটের একটি দল।

সিআইডি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত ঘটনায় রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা রুজু হয়। রাজবাড়ী সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারনামীয় আসামী মোঃ ইয়ার আলী@ ইয়াদ আলী@ খোরশেদ@ বিল্লাল এর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে অভিযোগ পত্র আদালতে দাখিল করেন। আসামী নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ায় প্রতারক চক্র এডভোকেট মুসরোজ ঝার্ণা সাথির মাধ্যমে মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, অভিযোগ পত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন ভাবে তৈরি করে হাইকোর্ট বিভাগে জামিনের আবেদন করেন। জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের আপীল আদালত আসামী মোঃ ইয়ার আলীকে ছয় মাসের অন্তঃবর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন।

বিজ্ঞ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহম্মেদ মামলার মূল কাগজপত্র যাচাই কালে জাল-জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করলে আদালত উক্ত আসামীর জামিন আদেশটি বাতিল করে জালিয়াতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ প্রদান করেন।

আদেশ মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্টার বাদী হয়ে এ্যাডভোকেট মুসরোজ ঝর্ণা সাথি ও শাহিনুর রহমান দ্বয়ের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

সিআইডি সূত্র আরো জানায়, সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগ মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করার পর একটি টিম ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত এ্যাডভোকেটের সহকারী মোঃ হারুন-রশিদ @ হারুনকে গ্রেফতার করে। বিজ্ঞ আদালতে তার দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রেক্ষিতে জাল-জালিয়াতি চক্রের মূলহোতাসহ চক্রের অপর দুই সদস্যকে রংপুর জেলা হতে গ্রেফতার করে সিআইডি।

সিআইডির অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে জামিন জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হাইকোর্ট, জজ কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, ডেপুটি জেলারসহ আরও অন্যান্যদের মোট ৪৩টি ভুয়া সীল ও ১টি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডির তদন্তে আরো বেরিয়ে আসে, এ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত বিচারকের জাল স্বাক্ষর ও সীল ব্যবহার করে বিভিন্ন মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, অভিযোগপত্র ইত্যাদি সুবিধামত ভুয়াভাবে তৈরি করে হাইকোর্ট বিভাগ হতে আসামীদের জামিনে মুক্ত করার কাজে লিপ্ত ছিল। তাদের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলাটি সিআইডির ঢাকা মেট্রো- দক্ষিণ বিভাগের নিকট তদন্তাধীন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com