বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
গাইবান্ধায় পরকীয়ায় স্ত্রীর আত্মহত্যা

গাইবান্ধায় পরকীয়ায় স্ত্রীর আত্মহত্যা

এইচ আর হিরু, গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধায় পরকীয়ার মজা নিতে রাজি ছিলেন ভন্ড প্রেমিক রাজু কিন্তু বিয়েতে নয়। বিয়েতে প্রত্যাখ্যাত হয়ে জীবন যৌবন বিলিয়ে দেয়া মিতু অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তার আত্মহত্যায় এলাকায় নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাবিরাট এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এলাকার প্রভাবশালী কথিত ছাত্রনেতা ভণ্ড প্রেমিক রাজু মিয়ার সাথে মিতুর দীর্ঘদিন পূর্ব থেকে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরকীয়ার সম্পর্ক ধরে মিতু তার প্রথম স্বামী বগুড়ার শেরপুরের রতন প্রামাণিকের সংসার ছেড়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান শুরুকরে। মিতুর ৭ বছর বয়সী সন্তান মোজাহিদকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করাকালে বড়শাঁল গ্রামের আলী আনছার মাস্টারের পুত্র রাজু ও বরু গ্রামের খোরশেদ আলমের স্বামী পরিত্যক্ত খাদিজা আক্তার মিতু (২৩) এর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক এলাকায় পরিচিতি পায়। এক পর্যায়ে রাজু মিতুকে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে পুত্র মোজাহিদসহ মিতু এলাকায় হেয় প্রতিপন্ন হতে থাকে। সামাজিক অবজ্ঞা ও অবহেলা সইতে না পেরে বাধ্য হয়ে মিতু ঘটনার দিন তার মামার পূর্ব দুয়ারী ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। তার পরিবারের সদস্যরা আত্মহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেছে।
এ ঘটনায় মিতুর বোন সেতুর সাথে কথা বললে সে জানায়, আমার বোন স্বামী পরিত্যক্ত অবস্থায় আমাদের বাড়িতে অবস্থান করাকালে রাজুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে। সে প্রায়ই এ বাড়িতে এসে রাত কাটাত। যখন খুশি তখনই আমার বোনের সাথে দেখা করতে আসত। ঘটনার দিন সকালে বিচার শালিসের নামে রাজু তার বন্ধু জাকারিয়াসহ মিতুর বাড়িতে গিয়ে মিতুর ব্যবহৃত টাচ্ ফোন কেড়ে নিয়ে মেজবাহুলের বাড়িতে আসে। এরপর ফোনের মেমোরি কার্ড, ম্যাসেজ ও অন্যান্য তথ্য মুছে ফেলে। মিতু ফোনটি উদ্ধার করে ফোনে রক্ষিত তার গোপন তথ্যাদি না পাওয়ায় সে মনের দু:খে সকলের অজান্তে আত্মহত্যা করে বলে জানা গেছে।
এদিকে সেতু তার বোন মিতুর ফোন থেকে রাজুর ব্যবহৃত নতুন মোবাইলে কথা বললে রাজু জানায়, রাজনৈতিক কারণে তাকে হেয় করার জন্য একটি মহল তাকে জড়ানোর পায়তারা করছে।
অপরদিকে মিতুর বোন সেতু ও তার মা-খালারা কান্না জড়িত গলায় জানান, মেজবাহুল ও তার স্ত্রী প্রায়ই আমাদের বাড়িতে এসে মিতুকে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে রাজুর সঙ্গে মেলামেশা করার সুযোগ করে দিত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বৈরাগি হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এই প্রতিনিধিকে জানান, অপমৃত্যুর সংবাদের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি একেএম মেহেদি হাসান জানান এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। খাদিজা আক্তার মিতুর আত্মহত্যায় এলাকায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com