February 25, 2020, 2:19 pm

সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করার কথা ঘোষণা করেছেন খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনের উপরে শুনানী শুরু মালয়েশিয়া বাংলাদেশীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করবে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে : আইইডিসিআর পরিচালক প্রযুক্তি ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবানের মধ্যে যুদ্ধ অবসান চুক্তি সংযুক্ত আরব আমিরাতে করোনায় ১ বাংলাদেশী আক্রান্ত দেবীদ্বারে শিশু মাতৃ হাসপাতালের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত পদ্মা সেতুর ২৫তম স্প্যান ৩ হাজার ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান একুশের প্রথম প্রহরে জাতির পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
লক্ষ্মীপুরে ঝুঁকিতে থেকেও জনগণের নিরাপত্তায় যাঁরা

লক্ষ্মীপুরে ঝুঁকিতে থেকেও জনগণের নিরাপত্তায় যাঁরা

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর:
নানা সমস্যা ও জটিলতায় জর্জরিত লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা কার্যালয়। দীর্ঘদিনের পুরনো জরাজীর্ণ ভবনে রঙের প্রলেপ ও জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে থানা অফিস কাম ব্যারাক হিসেবে। একইভাবে পরিদর্শক ও উপ-পরিদর্শকগণের আবাসিক ভবন তিনটিরও নাজুক অবস্থা। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, পলেস্তার খসে পড়ে ও বৃষ্টির পানিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। এতে থানা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যঘাত ঘটছে। যেকোনো মুহুর্তে ভবন ধসে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভয়ে আবাসিক ভবন ছেড়ে অধিকাংশ পুলিশ অফিসার থাকেন ভাড়া বাসায়। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের নিরাপত্তায় নিয়োজিত তাঁরা। এতে থানায় আগত সেবা প্রত্যাশীরাও থাকেন চরম আতঙ্কে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ১৯০০ সালের ১৫ মার্চ লক্ষ্মীপুর সদর থানার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর আয়তন ৫১৪ দশমিক ৭৮ বর্গকিলোমিটার। সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১টি পৌরসভা নিয়ে সদর থানা গটিত হলেও বর্তমানে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১টি পৌরসভার প্রায় ৫ লাখ মানুষ এ থানার আইনী সেবার আওতাভূক্ত। বাকী ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গত ২০১৪ সালে পৃথক ভাবে চন্দ্রগঞ্জ থানা গঠন করা হয়। সদর থানায় ৩৭জন পুলিশ সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ১জন পরিদর্শক (ওসি), ১ জন তদন্ত কর্মকর্তা, ১২জন উপ-পরিদর্শক, ১৩জন সহকারী উপ-পরিদর্শক ও ১০জন পুলিশ কনেস্টেবল দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।
পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পরবর্তী সময় ১৯৭৬ সালে সদর থানার দ্বিতলা বিশিষ্ট্য মূল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এতে নিচ তলায় ৫টি কক্ষে থানার অফিস কার্যক্রম চালানো হয় এবং ২য় তলায় ৫টি কক্ষ ব্যারাক হিসেবে গাদাগাদি করে ব্যবহার করে আসছে পুলিশ কনস্টেবলগণ।
২০০৮-০৯ অর্থ বছরে জাপানী অর্থায়নে ২০টি মডেল থানার সাথে লক্ষ্মীপুর থানাকেও মডেল থানায় রূপান্তরিত করা হয়। এতে গণপূর্ত বিভাগের আওতায় ৩০ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে ভবনটিতে স্থান সংকলন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে থানার প্রশাসনিক মূল কার্যক্রম করতে হচ্ছে ঝুকিপূর্ণ ভবনেই।
আরো জানা যায়, বিগত ১৯৫১-৫২ অর্থবছরে থানার অফিসার ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শকগণের জন্য তিনতলা বিশিষ্ট্য একটি ও একতলা বিশিষ্টি একটি মোট ২টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়। স্থান সংকুলনের অভাবে পরবর্তীতে সদর থানার অফিসার ইনচার্জের জন্য পৃথক ১তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরোন এসব ভবন বর্তমানে সম্পন্ন ব্যবহারের অনুপযোগী।
এদিকে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন পিপিএম-সেবা দায়িত্বে থাকা কালে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় নতুন ভবন নির্মানের জন্য অনুমোদনসহ অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে পুলিশ হেডকোয়াটার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি (এস্টেট) নিকট লিখিত প্রস্তাব প্রেরণ করেন। তবে এখনো পর্যন্ত এর দৃশ্যমান কার্যকর কোন ভূমিকা দেখা যায়নি।
প্রস্তাবনায় জানানো হয়, লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার (অফিস-কাম-ব্যারাক) ভবনটি অতি পুরাতন হওয়ায় বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেওয়ালে ফাটল এবং ছাদের আস্তর খসে পড়ে রড দৃর্শমান। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে ছাদ ছূঁইয়ে পানি প্রবেশ করে সরকারি জরুরী কাগজপত্র ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মেরামত করালেও ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব হচ্চে না। যে কোন মুহুর্তে ধসে পড়ে পুলিশ অফিসার ও ফোর্সদের জীবন নাশের সম্ভবনা রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্ধের জন্য অনুরোধ জানানো হয় এতে।
সরেজমিনে গিয়েও থানা ভবন ও আবাসিক ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা দেখা যায়। উপ-পরিদর্শকদের জন্য নির্মিত তিন তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনে প্রতি ইউনিটে ৩টি কক্ষ, টয়লেট ও রান্না ঘরসহ সব কক্ষই জরাজীর্ণ অবস্থা। দু’একজন উপ-পরিদর্শক থাকলেও অধিকাংশরা থাকেন বাসা ভাড়া করে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোছলেহ উদ্দিন জানান, তার রুমে দুই বারই ছাদের বড় পলেস্তারের অংশ খসে পড়েছে। প্রথমবার কক্ষে বসে মামলার তদন্ত করার সময় হঠাৎ পলেস্তের খসে পড়ে। এতে একটুর জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান। দ্বিতীয়বার রুমের বাহিরে অবসস্থান করা অবস্থায় পলেস্তার খসে পড়ে কাগজপত্র নষ্ট হয়। জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার না করে নতুন ভবন নির্মানের দাবী তাঁর।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, প্রায় ৫ লাখ মানুষের নিরাপত্তার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানাটি। কিন্তু নানা সমস্যা ও সংকট রয়েছে এখানে। সবগুলো ভবনই ঝুঁকিপুর্ণ। একই সময় নির্মাণ করায় এখন সবগুলোই ব্যবহারের অনুপযোগী। বিশেষ করে ব্যারাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। সাবেক পুলিশ সুপার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুলিশ হেডকোয়াটার্স এ চিঠি দিলেও এখনো ভবন নির্মাণের দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যায়নি। দ্রুত পুরানো থানা ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের দাবী জানান তিনি।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফেরদৌস উজ জামান বলেন, লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভবনগুলো পুরনো হওয়ায় পলেস্তার খসে পড়ছে। পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে লিখিত একটি অবগতিপত্র পেয়েছি। জরাজীর্ণ থানা ভবনের ডিজিটাল সার্ভে করার পর পুলিশ হেডকোয়াটারে পাঠানো হয়েছে। ওইখান থেকে অনুমোদন ও বরাদ্ধ গণপুর্ত বিভাগের পাঠানো হলে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও এস্টেট অফিসার পংকজ দেবনাথ বলেন, লক্ষ্মীপুর মডেল থানার নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদনের বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়াটার্সএ প্রক্রিয়ায় আছে। আশা করি আগামী সভায় অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্ধ পেলে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে।
তিনি আরো জানান, লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় ভবনগুলো স্বাধীনতারও পুর্বে একই সময়ে নির্মিত। বর্তমানে ভবনগুলো খুবই জরাজীর্ণ । মডেল থানা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার কোন পরিবেশই নেই এখানে। এতে ভবন ধসে পুলিশ সদস্যদের প্রাণ হানির আশঙ্কা রযেছে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com