বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস

৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর:
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের দিনটিতে হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরে প্রকাশ্যে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধকালীন সময়ে জেলার ৫টি উপজেলায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ নিরীহ জনসাধারণকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাক বাহিনী। লক্ষ্মীপুরের বিভিন্নস্থানে তাদের মোকাবেলায় মুক্তিবাহিনী প্রায় ১৯টি সম্মুখযুদ্ধসহ ২৯টি দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে লক্ষ্মীপুরকে হানাদার মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা।
এসব যুদ্ধে সৈয়দ আবদুল হালীম বাসু, মনছুর আহমদ, আবু ছায়েদসহ ৩৫জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ওই সময়ে রাজাকারদের সহযোগিতা নিয়ে পাকহানাদার বাহিনী আরো জানা-অজানা কয়েক হাজার নারী-পুরুষকে হত্যা করে।
৭১ সালের রনাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহম্মদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকুল হায়দার জানান, লক্ষ্মীপুর জেলা কীভাবে পাক হানাদার মুক্ত হয়।
তারা জানান, সে সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরে এনে মাদাম ব্রীজের উপর থেকে গুলি করে নারী-পুরুষসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়। জ্বালিয়ে দেয়া হয় মুক্তিকামী হাজারো মানুষের ঘরবাড়ি। পরে ৪ ডিসেম্বর প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হায়দার চৌধুরী ও সুবেদার প্রয়াত আবদুল মতিনের নেতৃত্বে দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা একত্রিত হন। বিভক্ত হয়ে দালাল বাজার, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি, শাখারী পাড়ার মিঠানীয়া খালপাড়সহ বাগবাড়িস্থ রাজাকার ক্যাম্পে হামলা চালান এসব মুক্তিযোদ্ধারা।
এসময় ৭০-৮০ জন পাকিস্তানী মেলিটারী ও রাজাকারকে আটক করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেন তারা। ওই দিনই হানাদার মুক্ত হয় লক্ষ্মীপুর। উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা।
যুদ্ধকালিন সময়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের আজও নীরব সাক্ষী হয়ে আছে শহরের মাদাম ব্রীজ, বাগবাড়িস্থ গণকবর, সারের গোডাউনে পরিত্যাক্ত টর্চারসেল, বধ্যভূমি, পেয়ারাপুর ব্রীজ, বাসুবাজার গণকবর।
১৯৭১ সালের এ দিনে পাক বাহিনীদের পরাজিত করে লক্ষ্মীপুরকে হানাদার মুক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com