মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

নোয়াখালীতে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যার দু’বছর:  আজও চোখের পানি শুকায়নি ইতির মা বাবার!

নোয়াখালীতে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যার দু’বছর:  আজও চোখের পানি শুকায়নি ইতির মা বাবার!

অ আ আবীর আকাশ,নোয়াখালী ঘুরে এসে:
আদরের ছোট কন্যা ইতিকে হারিয়ে বাবা-মা দুজনেই পাগলপ্রায়। চোখে ঘুম নেই, ঘরদোরে মন নেই, স্থির থাকতে পারেন না কেউ-ই। এমনকি খাওয়া-দাওয়াতেও প্রচুর অনীহা। দিনমজুর বাবা গোলাম মাওলা ছন্নছাড়া জীবন অতিবাহিত করছেন। এখনো বুকের সোনামানিককে খুঁজে ফিরছেন। দু চোখে জল ঝরতে ঝরতে মায়ের চোখ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ছে।
ইতি আক্তার, ৯ বছরের একটি নিষ্পাপ মেয়ে।দক্ষিণ মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। লেখাপড়া ভালো ছিল। সবার মন জয় করে নিতে পারত এক নিমিষেই। ৬ বোনের মাঝে সবার ছোট ইতি। বাবা গোলাম মাওলা দিনমজুর। ৬ বোনের মধ্যে ৪জনের বিয়ে হয়েছিল। বাড়ীর দহলিজেই স্কুল।ইতিকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে মাটিচাপা দেয় হত্যাকারীরা। ঘটনাটি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মোমমিনপুর গ্রামের আলোচিত ঘটনা ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বরের। যা নিয়ে তৎসময়ে সোমপাড়া সাহাপুর বশিকপুর শ্যামপুর ও ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। ইতি মাকে খুঁজতে বাড়ীর পাশে রাস্তায় এলে নিখোঁজ হয় বলে তার বাবা গোলাম মাওলা জানান। নিখোঁজের তিনদিন পর বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ভিটি থেকে মাটিচাপা অবস্থায় ইতির লাশ উদ্ধার করা হয়।
ইতি হত্যার মামলায় (যার নং জিআর ২১৪৮/১৮) ৩ জন আসামি জেলহাজতে রয়েছে। তাদের মধ্যে জাবেদ হোসেন -পিতা আক্তার হোসেন, মোহাম্মদ রাফি- পিতা ইসমাইল হোসেন, মোঃ মিরাজ -পিতা মোহাম্মদ হোসেন তারা নির্যাতন পরবর্তী হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে।
‘তাদের আত্মীয়-স্বজন ইতির বাবা গোলাম মাওলাকে প্রায় সময় হুমকি-ধমকি দেয়, আপস মীমাংসা করে মামলা তুলে নেয়ার জন্য।’ সাংবাদিকদের কাছে গোলাম মাওলা এমনটি জানান কান্না জড়িত কন্ঠে।
গোলাম মাওলা বলেন -‘আমি গরিব মানুষ, যারা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যেন হয়। এভাবে আর কোন নিষ্পাপ মেয়েকে কোন পাষণ্ড নির্যাতনের সুযোগ যেন না পায়। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।’ বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
উপস্থিত স্থানীয়রা একটাই দাবি করেন -হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। তারা যেন কিছুতেই আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসতে না পারে, তাদের কঠিন শাস্তি হলে আর কোন বখাটে কোন নিষ্পাপ মেয়ের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারবেনা।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com