সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

বিদেশে প্রচুর চাহিদা লক্ষ্মীপুরের হাতেবোনা টুপি

বিদেশে প্রচুর চাহিদা লক্ষ্মীপুরের হাতেবোনা টুপি

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর :
লক্ষ্মীপুরের তৈরি টুপি বিদেশে ও প্রচুর চাহিদা রয়েছেন। এখানকার নদী ভাঙন কবলিত অন্যতম এলাকা লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা। এ অঞ্চলের মানুষ বেশিরভাগই জেলে এবং কৃষক।
তবে এ এলাকার গ্রামের নারীদের হাতে তৈরি নকশি টুপি যাচ্ছে ওমান, কুয়েত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। সংসারের কাজের অবসর সময়ে নারীরা টুপি তৈরির কাজ করেন। এতে গ্রামীণ নারীর কর্মসংস্থান ও পরিবারের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ঈদে  এ টুপির চাহিদা দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে যায়।
জানা যায়, নকশি দিয়ে তৈরি বিদেশে রপ্তানি করা এসব টুপি তৈরিতে বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। প্রথমে টুপির ডিজাইন তৈরি, এরপর সম্পূর্ণ বাংলাদেশি তৈরি কাপড়, কাটিং, আয়রনিং, নকশি ছাপ বসানো, নকশি ছাপের উপর মেশিনের সেলাই, হাসুয়া বা সুতা লুকানো, মহিলাদের হতে নকশি বুনন, পুনঃকাটিং, ধোলাই, পুনঃআয়রনিং ও টপ লাগানো। এর মধ্যে এ অঞ্চলের নারীরা শুধু নকশি বুননটা করে থাকেন।
কারিগররা জানায়, সাদা কাপড়কে কাটিং করে টুপি তৈরির উপযুক্ত করা হয়। কাটিং কারিগর প্রতি টুপিতে ১০ টাকা পরিশ্রমিক পায়। এর মধ্যে নকশি করতে হয়। এরপর মেশিনে সেলাই করে নানা ডিজাইন বা নকশার উপর মেশিনে সেলাই করা হয়। প্রতিটি টুপি সেলাইয়ের জন্য শ্রমিকরা ৪০ টাকা পায়। হাসুর কাজের জন্য দেয়া হয় ২০ টাকা। গ্রামীণ মহিলারা নকশার উপর সুঁই সুতার পরশ লাগিয়ে ৫শ টাকা থেকে ৬শ টাকার পারিশ্রমিক পায়।
তবে টুপিতে নমুনা অনুযায়ী নকশির কাজ করলে একটি টুপিতে সাড়ে ৫শ টাকা থেকে ৬শ টাকা ও ৮০% হলে ৪শ টাকা, ৬০% হলে ৩শ টাকা এবং এর চেয়ে নিম্নমানের হলে টুপি গ্রহণ করা হয় না এবং ঐ মহিলা পারিশ্রমিক পায় না। আর নকশি করার সুই সুতা মালিক সরবরাহ করে। মহিলাদের অভিযোগ পরিশ্রম অনুযায়ী নকশির কাজ করে যে টাকা প্রদান করা হয় তা অতি নগন্য।
রামগতি উপজেলার শিক্ষাগ্রামের (মনির মিয়ার বাড়ি) রিক্সা চালক মো. দিদারের স্ত্রী ফারভিন আক্তার জানায়, ঠিকভাবে কাজ করলে একটি টুপিতে নকশি করতে ১৫-২০ দিন সময় লাগে। নকশীর কাজ করে স্বামীর আয়ের সাথে কিছু টাকা যোগ করে ২ মেয়েকে নিয়ে তাদের ভালোই দিন কাটছে। প্রতিটি টুপিতে ৫শ থেকে ৬শ টাকা পারিশ্রমিক পান তারা।
একই এলাকার হাছিনা আক্তার জানায়, তার স্বামী মাইন উদ্দিন একজন ইটভাটা শ্রমিক। স্বামীর আয়ে তাদের পরিবার মোটামুটি চলে। কিন্তু অবসর সময় বসে থাকার চাইতে তিনি নকশীর কাজ করে আনন্দ পান। তাতে স্বামীর আয়ের সাথে বাড়তি আয় যোগ করে ভালোভাবে সংসার চালাতে পারেন।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com