October 12, 2019, 5:32 am

জুয়াখানার আপডেট ভার্সন কেসিনো

জুয়াখানার আপডেট ভার্সন কেসিনো

সৈয়দ নবী নেওয়াজ মিঠু: দেশে এখন সর্বধিক উচ্চারিত একটি শব্দ ক্যাসিনো। সহজ করে বললে, জুয়াখানার আপডেট ভার্সন কেসিনো। চলছিলো বেশ কদিন আগে থেকেই । আইন শৃ্খংলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের পর আলোচনায় আসে। রাজধানীর স্পোর্টস ক্লাবসহ নানা স্পটে অন্তহত ৬০টি কেসিনো চালাতো রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়। আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান শুরুর পর ক্যাসিনো হোতাদেও নাম সামনে আসতে থাকে। এদের একজন যুবলীগের মহানগর দক্ষিনের সভাপতি ঈসমাইল হোসেন স¤্রাটের। তার তত্বাবধানে কয়েকটি আর তার কর্র্মী দ্বারা পরিচালতি হতো বেশীরভাগ কেসিনো। আরো যাদের নাম আসে ক্যাসিনো হোতা হিসেবে, তারা হলেন যুবলীগ মহানগর দক্ষিণের সদ্য বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূইয়া, ওয়ার্ড কমিশনার মমিনুল হক সাঈদ । অভিযোগ উঠে, সহযোগীদের নিয়ে ক্লাবগুলোকে জিম্মী করে কেসিনো বা জুয়ার আসর চালিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেণ এই হোতারা। রাজধানী জুড়ে কেসিনো বা জুয়ার আসর। এক সময় ঢাকায় ফুটবল লিগের দাপুটে দল ভিক্টোরিয়া ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। স্বাধীনতার পর আবাহনী- মোহামেডানের দ্বৈরথের মধ্যেও বহুদিন উজ্জ্বল ছিলো আরামবাগ ক্রীড়া চক্র, ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো দলগুলো। পরে যুক্ত হয় ফকিরাপুল ইয়াংমেনস। বেশিরভাগ ক্লাবেই রয়েছে ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট ও হকি দল। বিশ্বের নামী দামী অনেক খেলোয়ারও খেলে গেছেন বেশ কিছু ক্লাবের হয়ে।ফুটবলের সেই জৌলুস আর নেই। ক্রিকেট আলো ছড়ালেও অনেক ক্লাবের সক্রিয় অংশগ্রহণ নেই। হকিতেও একই অবস্থা। খেলাধুলায় না থাকলেও ক্লাবগুলো হয়ে ওঠে অনুমোদনহীন কেসিনো বা জুয়ার আখড়া। এখান থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করে ফুলে ফেপে ওঠেন ক্লাব কর্মকর্তারা।
ক্লাবগুলোতে জমজমাট জুয়ার আড্ডা বা কেসিনো চলছে। সে খবর হয়তো দেশবাসীর কানে পৌঁছায়নি। তবে জুয়াড়ি, নীতি নির্ধারক ও আইনশৃংখলা বাহিনীর অজানা ছিলো না। এ নিয়ে কিছু রিপোর্ট হয়েছে গণমাধ্যমে, কানে তোলেননি সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত ১৮ই সেপ্টেম্বর শুরু হয় অভিযান। অভিযান শুরু করা হয় সদ্য বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূইয়া চালিত ফকিরাপুলের ইয়ংম্যান্স ক্লাব থেকে।
যুবলীগের ঐ নেতা তার নিয়ন্ত্রিত ক্লবে জুয়ার সঙ্গে মাদকও যুক্ত করেছিলেন। সকাল আটটা থেকে চব্বিশ ঘন্টায় তিন শিফটে বসতো জুয়ার আসর। যাতায়াত সমাজের প্রভাবশালীদের। র‌্যাবের অভিযানেই বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। রেখেছিলেন জুয়ার বিভিন্ন সরঞ্জাম, অনুমোদনহীনভাবে নিয়ে আসা বিদেশি সিগারেট, জুয়া চালানোর জন্যে বিদেশী অপারেটরসহ নানা আয়োজন। অভিযানে বিদেশি নাগরিকসহ ১৪২ জন আটক করা হয়। ফকিরাপুলে অভিযান শুরুর সাথে সাথেই ক্যাসিনোর মালিক খালেদের গুলশানের বাসায় অভিযানে নামে র‌্যাব। সেখান থেকে তাকে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। এরপরই শুরু হয় ওয়ান্ডারাস ক্লাবে অভিযান। এখানেও পাওয়া যায় কেসিনো ও জুয়ার সরঞ্জাম, দেশী বিদেশী মাদকদ্রব্য ।
ওয়ান্ডারাস ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রিড়া চক্রের অন্দরমহলেও চলে জুয়া ও নেশার আড্ডা। বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ ক্যাসিনোর মালিক এক রাজনৈতিক প্রভাবশালী। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রিড়া চক্র পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তারপরও সেখানে ক্যাসিনো সচল ছিলো।
এরপর রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালিয়ে সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। জব্দ করা হয়েছে বিদেশী পিস্তল, ক্যাসিনোর সরঞ্জাম ও মাদকদ্রব্য।
কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতিকে আগেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ক্লাবের আরো ৪ জনকে মাদক ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়।
ক্লাব কমপ্লেক্স থেকে জব্দ করা হয় ১ হাজার পিস ইয়াবা, ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, তাস, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন ও একটি বিদেশী পিস্তল।
অভিযানের পর থেকেই থমথমে মতিঝিলের ক্লাবপাড়া। থমথমে ক্রীড়াঙ্গণের সামনের সারির চারটি ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো, মদ ও জুয়ার আসরের খবরে ডিএমপির অভিযান। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ, ভিক্টোরিয়া ও দিলাকুশা- এই ৪টি ক্লাবে একযোগে অভিযান চালায় পুলিশ।
ক্লাবগুলোর ভেতরের চিত্র ইউরোপীয় ক্যাসিনোর মতো। পাওয়া গেলো ডিজিটাল বোর্ডসহ ক্যাসিনোর সরঞ্জাম। মদ, সিসা বারের আয়োজন এবং নগদ টাকা। এছাড়াও ক্লাবগুলোতে ছিল বেশকিছু নির্ধারিত কক্ষ।
ক্লাব কার্যক্রমের আড়ালে এইসব স্থানে বসতো জুয়া ও নেশার আসর। ক্যান্টিনের নামে ছিল মিনিবার। বিভিন্ন কক্ষ থেকে পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশের জুয়াড়ীদের ভিজিটিং কার্ড।
তবে, ইয়ংম্যান্স ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানের পর,ক্লাবগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সরে পড়ে ক্যাসিনোর সাথে জড়িত কর্মকর্তারা।
জুয়ার আসর বা কেসিনো নতুন কোন বিষয় নয়। আর জুয়া পৃথিবীর প্রাচীন বদঅভ্যাসের একটি। বাংলাদেশেও এটি পুরাতন বদঅব্যাস। এর নতুন ধরা শুরু আশির দশকে। চলুন দেখে আসি ক্যসিনোর দেশ-বিদেশের পরিস্থিতি।
বিশ্বব্যাপ জুয়া কবে থেকে শুরু হয়ে তার সঠিক ইতিহাস প্ওায়া দুষ্কর। ধারণা করা হয় বছর আগে জুয়ার ইতিহাস প্রায় সভ্যতার সমান। কালের টানে সমাজ এগুতে থাকে, আর জুয়া অনিয়ন্ত্রিত হতে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত জুয়ার আসরকে সীমানায় বাঁধতেই ক্যাসিনোর উৎপত্তি। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্যাসিনোর রমরমা ব্যবসা চলছে।
বিশ্বজুড়ে রয়েছে অসংখ্য ক্যাসিনো যেখানে জুয়ার নেশায় মত্ত থাকে জুয়ারিরা। আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, থ্যাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নেপালসহ অসংখ্য দেশে গড়ে উঠেছে এই টাকা উড়ানোর আসর। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ঠাকা উড়িয়ে আনন্দ পান। ক্যাসিনোতে যান টাকা উড়াতে।
কবে কীভাবে ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবগুলো থেকে খেলাধুলা বিদায় নিয়ে ক্যসিনো চালু হলো তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া দুষ্কর। তবে, ক্লাবে জুয়া চর্চা ছিলো প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই,।
ক্লাব সংশ্রিষ্টরা বলছেন আবাহনী-মোহামেডানসহ অন্যান্য ক্লাবে জুয়ার প্রচলন ছিলো আশির দশক থেকেই এবং সেটি করা হতো মূলত ক্লাবের পরিচালন ব্যয় নির্বহের জন্য।
তখন ক্লাবের সংগঠকরা রাজনীতিতে খুব একটা সক্রিয় ছিলেননা। বরং ক্লাবগুলোর মধ্যে খেলা নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা ছিলো। ্ওই সময়টাতে সপ্তাহে দুই-তিন দিন হাউজি পরিচালিত হত। ক্লাবের বার্ষিক দাতাদের বাইরের বড় আয় আসতো এই হাউজি থেকে।
ঢাকায় ক্যাসিনো সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে কলাবাগান ক্লাবের হাত ধরে প্রায় ৭/৮ বছর আগে। বিদেশের মতো বিশাল ফ্লোরে হাজার রকমের জুয়া খেলার যন্ত্রপাতির সমাহার না হলেও, গত ৫/৬ বছরে স্পট মেশিন পৌঁছে গেছে ক্লাবগুলোতে। পরবর্তীতে মতিঝিল, কলাবাগান, তেজগাঁও এবং এলিফ্যান্ট রোডে জমজমাট ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয়। এর আগে তাইওয়ানি একটি দল ২০০০ সালের দিকে এখানে পানশালা-কাম রেস্তোঁরা চালু করে। তারা চলে যাওয়ার পর, কয়েকজন বাংলাদেশি ক্যাসিনো চালু করে।
মুক্তিযোদ্ধা ক্রিড়া সংসদ। এক সময় খেলোয়ড় তৈরীর কারখানা ছিলো এটি। গত ৬-৭ বছর ধরে এখানে আর খেলোয়ার তৈরী হয়না।
যুবলীগ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ইসমাল চৌধুরী স¤্রাট এটির নিয়ন্ত্রন নিয়ে চালিয়েছে ক্যাসিনো চালিয়েছেন। প্রতি রাতে এখনো কোটি টাকার জুয়া খেলা হতো। এটি বন্ধে হাইকোর্টের রায় থাকলেও বন্ধ হয়নি।
খেলোয়ার সৃষ্টি না হল্ওে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন স¤্রটসহ বেশ কয়েকজন। স¤্রাটের ছত্রছায়ায় মহানগর দক্ষিনের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূইয়া , ওয়ার্ড কমিশনার মমিনুল হক সাঈদসহ এ অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।
খালেদের জুয়া রাজত্বে খবর
খালেদ ভূইয়ার জুয়া-রাজত্বের খবর। তার রাজত্বে পুরো এলাকা ছিলো থমথমে। ত্রাস, দখল, জুয়ার আসর, ক্যাসিনো, চাদাবাজিসহ এমন কোন অপরাধ নেই যা করেননি যুবলীগের সাবেক এ নেতা।
স¤্রাটের ছত্রছায়া। ক্যাসিনো চালাতো খালেদ ভূইয়া। মহানগরের দায়িত্ব পাওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন যুগলীগের সদ্য বহিস্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভূইয়া । কলোনীতে জন্ম নেয়া খালেদ ভুইয়া এক সময়ে মির্জা আব্বাসের ক্যাডার ছিলো। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদল হওয়ার পর যোগ দেন ক্ষমতাশীল দলে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। একের পর এক দখল, চাদাবাজিসহ নানা করণে ডন বনে যান কাসিনো খালেদ।
ইয়াংম্যান্স ক্লাব ক্যাসিনোর মালিক যুবলীগ নেতা খালেদা মাহমুদ ভূঁইয়া। অভিযোগ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত তিনি। কমলাপুর ও রেল কলোনীতে টর্চার সেলও ছিলো তার। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ইলেকট্রিক শক দেয়ার সরঞ্জাম। শুধু খালেদই নয়, এসব ক্যাসিনোর সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ঢাকা দক্ষিণের অনেক এলাকা, বিশেষ করে খিলগাঁ, সাজাহানপুর, টিন্ডটি কলোনী, এজিবি কলোনী, মুগদাসহ অনেক এলাকার ত্রাসের রাজত্ব ছিলো এই নব্য যুবলীগ নেতার। এসব এলাকায় বাড়ী ঘর দখল, সরকারি জায়গা দখল করে দোকান-পাট তুলে ভাড়া ও পজেশন বিক্রি, ফুটপথের চাঁদাসহ অনেক অপকর্মে কামিয়েছেণ শত কোটি টাকা।
খালেদ ভূইয়ার ক্যাডারদের গুলি খেয়ে এখন পঙ্গু আবস্থায় বিছানায় দিন কাটে এ ব্যাক্তির। তিনি জানান, খালেদের অনুসারিরা তাকে দুইটি এবং অন্য একজনকে ছ’টি গুলি করে। ত্রাস সৃষ্টি করে পুরো খিলগাওঁ দখলে নিয়েছেন তিনি।
খিলগাঁ ঝিলপারে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয় তার অফিস। এখানে প্রতিদিন লোক জড় করে ভয়ের পরিবেশ সৃস্টি করতো খালেদ। এলাকাবাসি জানায়, খালেদের অস্ত্রের সামনে তারা ছিলেন অসহায় জিম্মি।খিলগাও ২৪ নম্বর। এ ভবনের একটি ফ্ল্যাট খালেদের লোকজন দখল করে নিয়েছে, এমন অভিযোগ এলাকাবাসির। খালেদ বাহিনীর সবয়েচে বড় চর্চার সেল ছিলো হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে। এখানে তার অনুসারি ছাড়া অন্যদের প্রবেশাধিকার ছিলোনা। ছাত্রত্ব শেষে করতে পারেননি অনেকে। সে খবর পেয়ে জনাবিশেক লোক ছুটে আসেন। তারা কেউই খালেদের ক্যাডার বাহিনীর কারণে শিক্ষা জীবন শেষ করতে পারেননি।
হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যাক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি জানান এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।
বর্তমান কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতিও নির্যাতনের কথা অস্বিকার কারেন। একই সাথে অভিযোগ করেন তারা উশৃংখল ছিলো।
খিলগাঁ রেল কলোনীতে কয়েকশ দোকান তুলে এককালিন ১০ লাখ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকায় পজেশন বিক্রি করেছেন তিনি। কিছু দিন আগে একুশের চোখে অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান প্রচারের পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দোকানগুলো গুড়িয়ে দিয়েছে। এখানে তিন শতাধিক দোকানের পজেশন বিক্রি করেছেন খালেদ। সরকারি জায়গা দখল করে এজিবি কলোনীতে অন্তত ১৩০টি দোকান তুলেছেন খালেদের নেতৃত্বে জাহিদুল ইসলাম টিপু। টিপু আবার এ মার্কেটে আলিশান একটি হোটেলের মালিক। শতাধিক দোকান থেকে কয়েক কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন খালেদ ভূইয়া। এটি আবার চালিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের নামে।
মুক্তিযোদ্ধা মাকের্টের সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন আছে কিনা সে কাগজ দেখাতে পারেনি কেউ।
এ মার্কেট থেকে খালেদের নামে টাকা তুলেন আলমগীর। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষেপে যান তিনি।
গুলশান, নিকেতনে রয়েছে কেসিনো খালেদের বাড়ী ও ফø্যাট
ইয়ংমেনস কøাবে অবৈধ ক্যাসিনো চালানো দায়ে আইন শৃংখলা বাহিনী তাকে আটক করেছে বেশ কয়েকদিন আগে। কয়েক দফায় রিমান্ডে বেশ কিছু চাঞ্চল্য কর তথ্যও দিয়েছে খালেদ।
এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ড কমিশণার। এক সময়ে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর যুবলীগ নেতা স¤্রাটের হাত ধরে রাতারাতি যুবলীগে।
ক্যাসিনো সাঈদ বিস্তারিত।
ক্যাসিনো, বাড়ী দখল, চাদাবাজি ওয়ার্ড কমিশনার মমিনুল হক সাঈদকে কয়েক বছরের অগুনতি টাকার মালিক বানিয়ে দেয়। সিটি কর্পোরেশন নির্বচনে কমিশনার নির্বচিত হয়ে আরামবাগ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন সাঈদ। বাড়ীঘর দখল , চাদাবাজি , ফুটপাতে দোকান বসানোসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যেমে শত কোটি টাকার মালিক হন সাঈদ। অভিযানের আগেই দেশের বাইওে গিয়েছিলেন সাঈদ, আর ফিওে আসেননি।
আরামবাগ ক্রিড়া চক্র। অনেক খোলোয়াড় তৈরী করেছে এই ক্লাব। কয়েক বছর ধরে এখানে শুরু কেসিনো চলছে। জুয়ার টাকায় ক্লাব মালিকদের পটেক ভরছে।
নির্বাচিত হওয়ার পর পরই শুরু হয় দখলবাজি। আরামবাগের এই বহুতল ভবনটি রাতের আধাঁরে দখলে নেন মমিনুল হক সাঈদ ও তার সহযোগীরা।
এস এম নুরুল ইসলাম, মার্কেটের ব্যবসায়ি।
মমিনুল হক সাঈদের কার্যলয়। এটিও দখলের সম্পত্তি। শুধু কার্যলয় নয়, পুরো ভবনটিই দখলে নিয়েছেন এ কমিশনার। তবে, এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নয় স্থানীয়রা।
আরামবাগের রাস্তা ধরে অনুসন্ধানী টিম দেখে এই নারী অভিযোগ করেন তার বাড়ির একটি ফ্ল্যাট কমিশনারের লোকজন দখল করে নিয়েছে।
সেই বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় একজন কাজের মহিলা আছেন। প্রথমে তিনি ভাড়াটিয়া দাবী করেন। কাকে ভাড়া দেন? সে প্রশ্নের উত্তর নেই।
আমেরিকা প্রসাবী এ বাড়ী ওয়ালা এখন ভয়ে বাংলাদেশেই আসেন না। প্রাণের ভয়ে এখানে কেউ আসেনা, জানান ভুক্তভোগী নারী।
আরামবাগ ক্লাবের পাশের বহুতল এ ভবনটিতে বাংলাদেশ পবলিকেশন নামের একটি কোম্পানী ছিলো। কয়েক বছর আগে আট তলা এ ভবনটি পুরো দখলে নেয় মমিনুল হক সাঈদের লোকজন।
দোতালায় ছিলো টর্চার সেল। অভিযান শুরুর পর অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে সাঈদেও সহযোগীরা। পোস্টারে দেখা যায়, মেহেদী হাসান, মাহমুদুল হাসান ও নুরুদ্দিন আহমেদ সাকিব, এই নামগুলো। এলকার চাদাবাজী নিয়ন্ত্রন করেন এরা। দোকানদাররা জানান, হঠাৎ এক দিন সকালে মালিক বদল হয়।া দখলে নেয়ার পর এদেও কাছেই ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন।
ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্যাসিনোর পেছনে যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে পুলিশ।

এত বছর অবৈধ ক্যািসনো চললেও কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এমন প্রশ্ন ছিলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, এগুলো চলতে দেয়া হবেনা।
রাজধানীর এ ক্যাসিনো রাজ্য প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের । বর্তমান সরকার দুর্নীতি বিরোধী যে অভিযান শুরু করেছে। তা সফল হবে, সমাজে স্বস্থি ফিরবে, এমন প্রত্যাশা প্রতিটি সৎ নাগরিকের।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com