শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:০০ অপরাহ্ন

আত্মগোপনে যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির

আত্মগোপনে যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির

যুবলীগ সহ সকল দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাস চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযানকালে আত্মগোপনে যুবলীগ নেতা কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ এবং টাকার পাহাড়, একাধিক গাড়ি-বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমির মালিক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মনিরুজ্জামান চৌধুরী।
সূত্রে জানাযায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা, দুটি অস্ত্র মামলাসহ একাধিক চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলা রয়েছে। বিভিন্ন মামলায় ইতোমধ্যে সে একাধিকবার জেলও খেটেছে। সে নিজেকে ডিশ ব্যবসায়ী দাবি করলেও বিগত ২২ বছর ধরে মালিবাগ চৌধুরী পাড়া এলাকায় বিভিন্ন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করে আসছে। তিনি মালিবাগ-রামপুরা এলাকার প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা বলে জানান এলাকাবাসী।
মামলা সূত্রে জানাযায়, ২১ শে গ্রেনেট হামলা মামলার ১০ নং আসামী যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান ওরফে পিচ্চি মনির চৌধুরী অদৃশ্য কারনে পরবর্তিতে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার হয়ে যায়।
২০১৫ সালে এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ তাঁর বিরুদ্ধে ঝুপড়ি ধসে ১৫ জন মুত্যুর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী ও মূলহোতা হিসেবে মামালা হয় রামপুরা থানায়।
সারা বাংলাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া ঝিলপাড় বেগেরবাড়ী পানির মধ্যে টিন ও বাশের বহুতল ঝুপড়ি ধসে ওই দিন কমপক্ষে ১৫ জন নিহত এবং শতাধিক বাসিন্দা আহত হন। ঝুপড়ির মালিক যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান।
সেই মামলায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে এসে আবারও তার পুরোন হিসাব কিতাবে নেমে পরেন।
খিলগাঁওয়ের হাজীপাড়া বালুর মাঠ এবং খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া ঝিলপাড় বেগেরবাড়ী গড়ে তোলা হয়েছে গাড়ীর গ্যারেজ, রিকশার গ্যারেজ, খাবার হোটেল, সবজির দোকান, চা–দোকান, টংঘর। এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে প্রতি মাসে আদায় করা হয় ভাড়া। অথচ মাঠের মালিক গণপূর্ত অধিদপ্তর দখলের বিষয়টি জানতেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের দক্ষিণ–পূর্ব কোণে তাইজ উদ্দিনের রিকশার গ্যারেজ। এরপর সবজির বাজার। ১০টির বেশি সবজির দোকান আছে সেখানে। মাঠের দক্ষিণে নির্মাণ করা হয়েছে আরও তিনটি রিকশার গ্যারেজ। গ্যারেজগুলোর মালিক নুর ইসলাম, সুরুজ মিয়া ও ফেরদৌস। সব মিলিয়ে অন্তত দেড় শ রিকশা আছে গ্যারেজগুলোতে। এ ছাড়া মাঠে আছে চা–দোকান, খাবার হোটেল, ভাঙারির দোকান ও বস্তিঘর।
স্থানীয় লোকজন বলেন, আশপাশের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা দিন শেষে ওই খালি জায়গায় ময়লা–আবর্জনা ফেলেন। এতে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে মাঠের এক পাশ। তাঁরা বলেন, সন্ধ্যার পর গাঁজার গন্ধে হাজীপাড়া বালুর মাঠের ওই দিকে যাওয়া যায় না। সন্ধ্যা থেকে মাঝরাত পর্যন্ত সেখানে বসে মাদকের আসর। গ্যারেজ, বস্তিঘর ও ঝিলের পাশে বিক্রি হয় বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এলাকার অনেকে বিভিন্ন নেশার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। চুরি–ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটছে।
এলাবাসী জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যর মদদপৃষ্টে মনিরুজ্জামান ওরফে মনির চৌধুরী গংদের উথ্থান। সে সময় মনিরুজ্জামান ওরফে মনির চৌধুরী নামে কোন নেতা বা কর্মী তাদের দলে নেই বলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাংবাদিকদের কাছে দাবীকরেন। অবশ্য তার বছর খানেক পরেই স্থানীয় সংসদ সদস্যর ছবির সাথে মনির চৌধুরীর ছবি অনেক পোষ্টারে দেখা গেছে।
এলাকাবাসী আরো বলেন, দলীয় ক্ষমতা কিংবা টাকার প্রভাবে এমন ঘটনার পরও বেরিয়ে যান ঘাতক অপরাধীরা, কিন্তু যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, মারা যান তারা আর ক্ষতিপূরণের টাকাও পান না, বিচারও পান না।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com