রবিবার, ১৮ Jul ২০২১, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

গ্রুপিংয়ের কারনে ঘাট বন্ধ,  লক্ষ্মীপুরে নৌকা মাঝিদের দিন পুড়ছে! 

গ্রুপিংয়ের কারনে ঘাট বন্ধ,  লক্ষ্মীপুরে নৌকা মাঝিদের দিন পুড়ছে! 

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর:
আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন এবং ইউসুফ ছৈয়ালের গ্রুপিং ও ধন্দে কপাল পুড়ছে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীহাট মেঘনা নদী ঘাটের মাঝিদের।
 মজুচৌধুরীহাট থেকে নদীর তীরবর্তী চরগুলোতে প্রায় ১৭টি নৌকায় যাতায়াত করতো স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। গবাদি পশু ও চরে বসবাসরত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী আনা নেওয়ার কাজেও ব্যবহৃত হতো এ নৌকা গুলো। কিন্তু এ দুই নেতার গ্রুপিং ও ধন্দের কারনে এবং ইজারা না নিয়ে ঘাট পরিচালনার দায়ে নৌকার ঘাটটি বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এতে কপাল পুড়ে এখানকার মাঝিদের।
আলমগীর মেম্বার (লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ সদস্য) এবং আবু ইউসুফ ছৈয়াল (চর রমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান)। তারা দু’জনেই স্থানিয় আ’লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত।
স্থানিয়রা জানায়, কিছুদিন পর পরই এখানে দুই নামধারী নেতার বাহিনীদের সাথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। একই ভাবে এবার এই দুই নেতার ধন্দে কপাল পুড়ল মজুচৌধুরীর হাট নৌকা ঘাটের মাঝিদের।
তারা আরও জানায়, এখানকার বিনোদন প্রেমীরা নদী ও চরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরতে যান নৌকায় করে। তাতে কিছু টাকা আয় হয় মাঝিদের। এছাড়া চরের গরু-মহিষ ও বিভিন্ন ফসল আনা নেওয়ায়ও কিছু অর্থ আয় হয় এই ঘাটের মাঝিদের। তা দিয়েই কোনরকম চলে তাদের সংসার। এই নৌকা ও নৌ ঘাটের ইজারাদার হচ্ছেন আলমগীর মেম্বার। বহুবার ইউসুফ ছৈয়াল চেষ্টা করেও ঘাটটি নিজের দখলে নিতে পারেননি। তাই নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে চরম বিরোধ। তাছাড়া চরঅঞ্চলের জমি দখলসহ স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এগুলো নিয়ে একে ওপরের বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন যায়গায় অভিযোগ করে থাকেন। আর সেই ধন্দ আর অভিযোগের কারনেই নৌকা ঘাটটি আজ বন্ধ। ফলে কপাল পুড়ল অসহায় নৌকা মাঝিদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানায়, দীর্ঘদিন থেকেই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় নৌকা ঘাট চালু রয়েছে। নদী ও তীরবর্তি চরগুলোতে এখান থেকে নৌকায় করে ঘুরতে যান পর্যটকরা। এই নৌকায় করে চরগুলোর ফসল ও গবাদি পশু আনায়ন করা হয়। ঘাটের ১৭টি নৌকার মাঝির সংসার চলে এই আয় দিয়েই।
একাধিক মাঝি জানায়, নৌকা ঘাটটির ইজারাদার হিসাবে মাঝিদের কাছে পরিচিত আলমগীর মেম্বার। তাইতো প্রতিবছর ২ থেকে ৩ লাখ টাকা তাকেই দিচ্ছেন তারা।
কিন্তু ইজারাবিহীন ঘাট ব্যবহারের অভিযোগে গত (১৮ আগস্ট) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘাটটি বন্ধ করে দেন। পাশাপাশি ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অথচ মাঝিরা জানত না ঘাটটির কোন ইজারা ছিল না। বর্তমানে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে।
এদিকে কিছু অসাধু মাঝি অতিরিক্ত অর্থের লোভে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভোলাসহ বিভিন্ন যায়গায় যাত্রী পারাপার করছেন। তাছাড়া টাকার লোভে পড়ে চরগুলোতে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠে এই মাঝিদের বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে মনির, দেলোয়ার ও সাধা মাঝিসহ কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিবারের সদস্যদের দু’মুঠো আহারের জন্য প্রতিদিনই নদীতে বাইছেন নৌকা। আর নৌকা থেকে যে টাকা আয় করেন তাঁর অধিকাংশ অংশই জমা করতে হয় ঘাটের সমিতিতে। কারন এই টাকা থেকে ঘাটের ইজারার টাকা পরিশোধ করতে হবে। অবশিষ্ট টাকা সমিতির সদস্যরা ভাগ করে নিবেন। তাছাড়া পরিশোদ করবেন নৌকার কিস্তির টাকা। বর্তমানে ঘাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কষ্টে দিন কাটছে তাদের। তাই তারা দ্রুত ঘাটটি চালুর দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।
এবিষয়ে চর রমনি মোহন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল বলেন, কোন রকম ইজারা ছাড়াই মাঝিদের থেকে টাকা আদায় করত আলমগীর মেম্বার। এই নৌকায় বিভিন্ন অনৈতিক কাজ হতো জেনেও প্রতিবাদ করতে পারেনি। কারন ইজারাদার নামীয় আলমগীর মেম্বার খারাপ প্রকৃতির লোক। তার অনেক লোক আছে। সে জোর জবরদস্তি করে খায়। তাইতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়গুলো জানিয়েছি।
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ সদস্য আলমগীর মেম্বার বলেন, নৌকা ঘাটটির ইজারা রয়েছে। এটি কোন অবৈধ ঘাট নয়। ঘাট সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেখানো হয়েছে। এখানে কোন যাত্রীকে হয়রানি করা হয়না। আর অনৈতিক কাজও হয়না মাঝিদের সহযোগিতায়। স্থানীয় চেয়ারম্যান ঘাটটির ইজারা না পাওয়ায় নিজে ও তার অনুসারিদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রেদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, খেয়াঘাট আইন অমান্য, ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্গন ও পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় অবৈধ এই ঘাটটি বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পর্যটকদের যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই ঘাটটি ইজারার মাধ্যমে চালুর ব্যবস্থা করা হবে। অন্যথায় বড় কোন দূর্ঘটনার শঙ্কা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com