বুধবার, ২৮ Jul ২০২১, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

প্রয়োজনে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে : ওবায়দুল কাদের

প্রয়োজনে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে : ওবায়দুল কাদের

দুর্নীতি ও অপকর্মপ্রতিরোধে প্রয়োজনে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের বিষয়টা একটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল। ইতিহাসে যা ঘটেনি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছে রিপোর্ট নেয়ার জন্য, কোথাও কোনো অপকর্ম হলে যথাযথ তথ্য দিতে। ভবিষ্যতে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
ওবায়দুল কাদের আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সরকার দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আমাদের দলের কেউ যদি অন্যায় করে তাহলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। অপকর্ম করলে সবাইকে শাস্তি পেতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করানো হয়েছে।

বাংলাদেশের অন্য কোন ছাত্র সংগঠনে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহনের নজির নেই।
আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আপনিসহ আরও কয়েকজনের নামও আসছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের পার্টির সভাপতি শেখ হাসিনা। আমাদের পার্টিতে বারে বারে যেটা হয় দলের কাউন্সিলরা সব সময় নেতৃত্ব নির্বাচনে নেত্রীর মাইন্ড সেটের উপর সবকিছু ছেড়ে দেয়। জেনারেল সেক্রেটারি পদটি পার্টি প্রধানের নির্দেশনায় চলে।

এখানে প্রার্থী হওয়ার অধিকার সবার আছে।
তিনি বলেন, নেত্রীর ইচ্ছার বাইরে আসলে কিছু হয় না। নেত্রী জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে যাকেই চয়েজ করেন আওয়ামী লীগের কর্মী-কাউন্সিলররা তার প্রতি সবাই ঝুঁকে পড়ে। আরেকবার আমি থাকব কিনা এটা নির্ভর করে নেত্রীর উপর। তিনি নতুন কিছুও ভাবতে পারেন। নতুন মুখও চাইতে পারেন। তিনি যদি বলেন থাকতে, থাকব। তিনি যদি বলেন দায়িত্বের পরিবর্তন হবে, আমার কোনো আপত্তি নেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভিসির পদত্যাগ কী কারণে, নৈতিক স্খলন। তিনি যদি কোনো অন্যায় করে থাকেন, এখানে যদি তার কোনো অপকর্মে সংশ্লিষ্টতা থাকে, তদন্তে যদি এটা প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনিও তো আইনের ঊর্ধ্বে নন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইমলাম আলমগীরের জাবি ভিসির পদত্যাগ দাবির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলতো সবার পদত্যাগ দাবি করছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন। তিনি নিজেই নিজের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি নির্বাচনে জিতেও পদত্যাগ করেছেন। আবার কথা রাখতে পারেননি, ওই শূন্য জায়গায় নিজেই আরেকজনকে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন।আওয়ামী লীগের সাধালণ সম্পাদক বলেন, এই দ্বিচারিতায় তাদের যে ভালো ভালো কথার দাম নেই। তারা নিজেরা বলে একটা, করে আরেকটা। তারা নিজেরাই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। নিজের দলের যখন গণতন্ত্রের সংকট তারা দেশের গণতন্ত্র নিয়ে যখন কথা বলে তখন সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে হাস্যকরই মনে করবে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com