শনিবার, ১৭ Jul ২০২১, ০১:২১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ রেলের দুর্নীতি অনিয়ম

বাংলাদেশ রেলের দুর্নীতি অনিয়ম

সৈয়দ নবী নেওয়াজ মিঠু : সরকারি মাল দড়িয়া মে ঢাল। এটি সম্ভবত বাংলাদেশ রেল ওয়ের জন্য একটি যুতসই প্রবাদবাক্য। এক সময়ে বিনিয়োগ বঞ্চিত ধ্বংশ-প্রায়, জরাগ্রস্থ রেলকে বাঁচাতে বর্তমান সরকার গত দশ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়গের পাশাপাশি বেড়েছে লোকশান। দুই তিন বছর আগ্ওে রেলের লোকশান গোনা হতো শত কোটির অংকে। গেলো বছর লোকশান দাঁড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশী। আর, এ সময়ে ভাড়াও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে।
এত টাকা বিনিয়েগের পর যাত্রী সেবা যেমানে পৌঁছার কথা তা সেখানে পৌঁছার পারেনি। আর রেলের সেবা কার্যক্রম কতটা গতিশীল হয়েছে; সে প্রশ্ন্ও সামনে আসে? পরিসংখ্যান বলছে বিনিয়োগের হাত ধরে রেড়েছে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং জনভোগান্তি।
সম্প্রতি রেলের দুর্নীতি নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশণ-দুদক। দুর্র্নীতির ১০টি উৎস চিহ্নিত করে ১৫টি সুপারিশ করেছে।
সারা বিশ্বে নির্ধারিত সময়ে আরামদায়ক ও প্রায় ঝুকিঁমুক্ত যাতায়ত মাধ্যম রেল। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত পদ্ধতি হলেও রেল বাংলাদেশে গণমূখি পরিবহন ব্যবস্থা হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের জন্য রেল যাতায়াত কষ্টকর অভিজ্ঞতা। অনিয়ম-দুর্নীতি এবং অনেক ক্ষেত্রে নীতি সহায়তার অভাব রেল গণমুখি পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠেনি।
একটা সময় রেলকে বিলুপ্ত কারার ব্যবস্থা করা হচ্ছিলো। সেই ভঙ্গুর রেল বিভাগকে বাচঁতে বর্তমান সরকার যেমন নীতি সহায়তা দিয়েছে, তেমনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। গত দশ বছরে রেলে জনবল নিয়োগ, সেবামান উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যয় হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশী।
রেলের উন্নয়নে ২০১৩ সালে একটি মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করা হয়। এ মহা পরিকল্পনার আ্ওতায় ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ হাজার ছোট বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হ্ওয়ার কথা।
গেলো ৫ বছরে রেল উন্নয়নে খরচ; ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৩৪৩২ কোটি টাকা, ১৫-১৬ অর্থ বছরে বিনিয়োগ প্রায় ৮শ কোটি টাকা বেড়ে দাড়ায় ৪২২০ কোটি টাকা, ১৬-১৭ বছরে ৬ হাজার ৮ কোটি টাকা। ১৭-১৮ অর্থ বছরে ১০৬৯০ কোটি টাকা। এর পরের বছর নেয়া হয় ৩৫০৮ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প।
বাজেট বাড়ানো পরও লোকসান বাড়তে থাকে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে লোকসান হয় ৮০১ কোটি টাকা। ১৪-১৫ অর্থ বছরে ৮৭২ কোটি টাকা, ১৫-১৬ অর্থ বছরে ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা, ১৬-১৭ অর্থ বছরে ১ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা, ১৭-১৮ অর্থ বছরে লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৬শ কোটি টাকায়। এছাড়া, কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন, কেনা-কাটা, টেন্ডার, যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামত, টিকেট বিক্রি, গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোতে ক্যাটারিং সিস্টেম, বিনা টিকেটের যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়সহ নানা দুর্নীতিতে রেল বর্তমান অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে ।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশণ-দুদক রেলের সেবা নিশ্চিত করণে এবং দুর্নীতি বন্ধে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে রেল মান্ত্রনালয়ের কাছে। দুর্নীতির যে উৎসগুলো তুলে ধরা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:
১. জলাশয় লিজ দেয়া, রেলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা, রেলের শত শত একর জমি বেহাত
২. লোকোমোটিভ, কোচ, ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডিএমইউ) ক্রয় ও সংগ্রহ
৩. সিগনালিং ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়ন
৪. ডাবল ও সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ কাজ
৫. রেলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ
৬. রেলের কারখানা সংস্কার, যন্ত্রাংশ বিক্রয় ও সংস্থাপন
৭. ওয়ার্কশপ ও স্লীপার ফ্যাক্টরি কার্যকর না করে আমদানির মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি
৮. রেলের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে টিকিট বিক্রিতে ব্যাপক কালোবাজারি
৯. যাত্রীবাহী ট্রেন ইজারা দেয়া এবং
১০. ট্রেনে নিম্নমানের খাবার দিয়ে বেশি দাম নেয়া।

একই সাথে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতিবাজদের ধরতে ১৫ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

দুর্নীতি বন্ধে দুদকের দেয়া সুপারিশমালা কতটুকু বাস্তাবায়ন হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার চেষ্টা ।
খরচ হাজার হাজার কোটি টাকা। তার পর ও উল্টো পথে হাটছে রেল। বাড়ছে বাজেট, বাড়ছে লোকসান। ইঞ্জিন ও কোচে সংকটে হাহাকার বিভাগে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে রেলের ছাঁদে ঝঁকিপূর্ণ ভ্রমণ নিত্যদিনের চিত্র।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে রেলের ইঞ্জিন ছিল চার শতাধিক। তা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে শ’ দুয়েক-এ। বগি বা কোচ ছিলো হাজারের বেশী। বগি সংখ্যা নেমেছে অর্ধেকে। রাজধানীর কমলাপুরে গিয়ে দেখা যায় জোড়া তালির কাজ করছেন কিছু শ্রমিক। প্লাটফর্মের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় অসংখ্য বগি পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এগুলোর ছবি তুলতে গেলে নিষেধ করেন রেলকর্মীরা। জানান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা যাবেনা। তাদের নিষেধের আড়ালেই উঠে আসে পড়ে থাকা নষ্ট বগি ও ইঞ্জিনে ছবি । তাহলে প্রশ্ন হলো গত দশ বছরের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ গেলো কোথায়?
সারাদেশে রেলে লাইন সংস্করের কাজে গত কয়েক বছরে কয়েক শত শত কোটি টাকা ব্যয় করেছে কর্তৃপক্ষ। তারপরও ঝঁকিপূর্ণ রেললাইন থেকে গেছে।
রেল লাইনের নাজুক পরিস্থিও প্রমান সম্প্রতিক দুর্ঘটনা। ক’দিন আগেই রাজশাহীতে তেলবাহী ট্যাংকার চাইচ্যুত হয়। এসময় দির্ঘ সময় রাজশাহী ছিলো রেল যোগাযোগের বাইরে।।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের রেলট্র্যাকের দৈর্ঘ ১ হাজার ৫৬৭ কিলোমিটার। এই লাইনে ব্রিজের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬৭টি। এর মধ্যে ১৩০টির অবস্থাই খারাপ। স্লিপার , পিন ও নাটবল্টু যথাযথ নয় বলে রেল লাইনসহ বেশ কিছু ব্রীজ হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপুর্ন।
পশ্চিম রেলের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন কমপক্ষে ১৩০টি ব্রীজ সংস্কার করা জরুরী।
রেলসেতুর কাহিনী এমনই। হাজার হাজর কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও বছরের পর বছর সংস্কার হয়নি। সম্প্রতি মৌলভী বাজারের রেল দুর্ঘটনায় প্রানহানি তারই স্বাক্ষ্য দেয়।
সারাদেশে ২ হাজার ৮শ কিলোমিটার রেলপথে ক্রসিং রয়েছে আড়াই হাজারের বেশী। এগুলোর অধিকাংশই অনুমোদনহীন। অনেক জায়গায় জনগন ইচ্ছামত ক্রসিং বানিয়েছেণ। কোন গার্ড নেই, নেই কসিং-গেট। একারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা, ঝড়ছে প্রাণ।
সিরাজগঞ্জের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার বাইরে ঝুকিপূর্ণ রেল ক্রসিং-এর আর কোন প্রমানের দরকার পরেকি ? এখানে বর-কনেসহ মারা যান হন ৯ জন। এই মৃত্যু যেন রেলক্রসিং-এ নিহত শত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
রাজধানীর জুরাইন, শ্যামপুরসহ অনেক জায়গায় রেলক্রসিং-এ কোন পাহারাদার নেই, গেট্ও নেই। গত সপ্তাহেই এখানেই এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয় বলে জানান স্থানীয় লোকজন তাছাড়া নানা সময় ঘটছে দুর্ঘটনা কখনও লাইনের উপর ট্রাক পরে য়ায ফলে বোগান্তি বাড়ে যাত্রীদের ঘন্টা পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। দুর্ঘটনা এখানকার নিত্যঘটনা। গেন্ডারিয়া প্লাটফর্মে গিয়ে দেখা য়ায মাসিক মাসহারায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু দোকান ঘর। প্লাটফমের ঘর গুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে নানা কাজে।
জুরাইনে রেল লাইনের ওপরই বসেছে বাজার। খুবই ঝুকিপূর্ন এই অস্থায়ী বাজার । পুরো লাইন দখল করে বাজার বসান স্থানীয় প্রভাবশালীরা। দূর থেকে মনে হবে রেলপথ কোথায়? এতো নিত্য দিনের হাট। যাত্রীবাহী ট্রেন ইজারা চলাচল করছে ঢাকা-নারায়গঞ্জ, ঢাকা থেকে নারায়গঞ্জের ইজারা চলাচল শেষ ট্রেন ৯.৫৫ মিনিটে, ডেমু ট্রেন ঢাকা থেকে নারায়গঞ্জের ছাড়ার সময় ১০.২০ মিনিটে, ইজারা চলাচল ট্রেন প্লাটফম থেকেও নিধারিত সময়ে না ছেড়ে ১০/১৫ মিনিট দেড়িতে ত্যাগ করে ফলে ডেমু ট্রেন যাত্রী শুনো হয়ে ঢাকা থেকে নারায়গঞ্জের লাইনে চলাচল করছে এতে রেলের লোকশান হচ্ছে।
রেলের বোঝা ডেমু ট্রেন। ২০১৪ সালে চীন থেকে ১০ সেট ডেমু ট্রেন আনা হয়েছিল ৬৬২ কোটি টাকায়। যা সুদসহ প্রায় হাজার কোটিতে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে কয়েকদিন আগে ডেমুর নতুন প্রকল্প বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
ক্রমবর্ধমান রেলদুর্নীতির খন্ডচিত্র কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে ভিত পাচ্ছেনা রেল। উচ্চ পর্যায়ের লোকজন দুর্নীতিতে জড়িত, তাই অধস্তনদেও অনিয়ম দেখলেও কিছু বলেনা তারা। রেলের দুর্নীতির সামান্য নমুনা।
কমলাপুর রেল স্টেশন। এখান থেকে সারাদেশে দিন-রাত্রি ট্রেন চলাচল করে। সবসময় ভিড়। কিছুক্ষন পরপর দেশের বিভিন্ গন্তব্যে অঞ্চলে ট্রেন ছেড়ে যায়। টিকিট কাউন্টারে যাত্রীদেও দির্ঘ সারি। এটেন্ডেন্টদেও কাজ হলো যাত্রীদের সেবা দেয়া। যাত্রীদের সীট দেখিয়ে দেয়া তাদের লাগেজ উঠাতে সাহায্য করা। তারা কি সে কাজ করছে? বরং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাত্রী হয়রানির।
এসব অভিযোগের সত্যাতা নিশ্চিত করতে আমরা টার্গেট করি সিলেটাগামী একটি ট্রেনকে।
রুবেল। এ ট্রেনেট এটেন্ডেন্ট। তিনি বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলছেণ। যারা টিকেট কাটেননি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সীট বিক্রি করছেন। কয়েক জনের কাছ থেকে দুইশ থেকে ৪শ টাকা পযর্ন্ত নিচ্ছেন।
পাশের বগিতে দায়িত্ব পালন করছেন অন্য এটেন্ডেন। সিলেটগামী একটি পরিবারে কাছ থেকে ৭শ টাকা আদায়ে করে সে।
তাকে অনুসরন করতে থাকি। তিনি সামনের একটি বগিতে গিয়ে অন্য এক যাত্রীর কাছ থেকে ২শ টাকা নেন। এর পর এক মহিলার কাছ থেকে নেন সাড়ে তিনশ টাকা।
এর পরের বগিতে আছেন সুমন নামের এই এটেন্ডেন্ট। তিনিও একই কাজ করছেন। সিট দেয়ার কথা বলে, দুই যাত্রীর কাছ থেকে নিলেন ৪শ টাকা। পাশের অন্য একজনের কাছ থেকে নিলেন ২ শ টাকা। শুধু এরাই নয়। প্রতিটি বগির এটেন্ডেট একই কাজ করেন। এবার শুনবো টাকা আদায়কারীদের বক্তব্য।
রুবেল নামের এই এটেন্ডেন্ট এতক্ষণ যে টাকা উঠালেন তিনি তা অস্বীকারের চেষ্টা করেন।
পরের জনের অবস্থাও একই। ক্যামেরা দেখা মাত্রই তারা। উল্টে গেলেন। সবাই সাধু সাজার চেষ্টা করেন।
টাকা নেয়ার কথা শুণে এটেন্ডেন্ট সুমন আকাশ থেকে পড়েন। তিনি এখন আর কিছুই জানেন না।
শুধু এটেন্ডেন্টরাই নয়। আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন এক আনসার সদস্য। ট্রেনে হকার ্ওঠা নিষেধ থাকালেও তিনি কিছু টাকার বিনিমেয় এক হাকারকে বগিতে ঢুকতে দিলেন। তবে ক্যামেরার সামনে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ট্রেনটির চালকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনেক যাত্রীর। ইঞ্জিনে যাত্রীর উঠানো, ইচ্ছেমত স্টেশনের বাইরে যাত্রী উঠানো বা নামানোসহ অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চালক মুখ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
কাউন্টারে টিকেট বিক্রি না করে টিটিদের মাধ্যেমে বেশী টাকায় টিকিট বিক্রির অভিযোগ অনেক যাত্রীর। তারা বলেন, ট্রেন ছাড়ার অনেক আগেই কাউন্টার বন্ধ করে প্লাটফর্মে টিটিরা ডাবল দামে টিকিট দেন।
অভিযোগের প্রমান মেলে যখন দেখা যায় , বিশ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।
এছাড়া প্রতিদিন যে পরিমান টাকা টিটিরা যোগাড় করেন করেন তার বেশীর ভাগই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যায় কি-না? তা খতিয়ে দেখার বিষয়।
এমন একটি কক্ষে, যে কক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাধারণ মানুষকে এখানে এনে হয়রানি করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় নটরডেম কলেজের এক শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজনকে আটকে রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন শুরুর মধ্যেই চলে আসেন রেলের বিভাগীয় কর্মশিয়াল অফিসার। তিনি এসে প্রথমেই নিউজ টিমের প্রতি মেজাজ দেখাতে শুরু করেন।
জানতে চান আমাদের টিকেট আছে কিনা। তার সঙ্গে যোগ দেয় আরো কিছু রেল কর্মী। সবাই আমাদের ওপর চড়াও হন।
বিভাগীয় এ কর্মকর্তাকে এটেন্ডেন্টদের টাকা তোলার বিষয়সহ বিভিন্ন অনিয়মে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দুর্নীতিবাজদের পক্ষে অবস্থান নেন।
যারা অবৈধভাবে সিট বিক্রি করেন, যাত্রীদের হয়রানি করেন, তাদের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে এ কর্মকর্তার দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে।
কমলাপুর থেকে ট্রেন ছাড়ার সময়সূচি নিয়্ওে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অনেক ট্রেনই ছেড়ে যায়না। এমন অভিযোগ অনেকের।
টিকেট কালোবাজারী নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। টিকেট থাকা সত্বেও অনেকেই টিকেট পাননা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় স্টেশন ম্যানেজারের সাথে। তিনি জানান, নির্ধাতির সময়ে ট্রেন ছাড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অবৈধ্যভাবে যারা টাকা তুলছেণ অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন স্টেশণ ম্যানেজার।
বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার আচরনে মনে হয়েছে? তিনি কি রেলের উন্নয়ন চান নাকি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন? রেলের ভূমি দখলসহ নানা বিষয়ে।
রেলের হাজার হাজার বিঘা সম্পত্তি বেদখলের কথা। বাস্তবতা হচ্ছে রেলের কত জমি বেদখলে তার কোন পরিসংখ্যান নেই কারো কাছে। যে যারমত দখল করে নিয়েছে। তবে, ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেণ মন্ত্রী।
ঢাকার পাশেই গাজীপুর জেলা। এখান থেকে প্রতিদিন সকালে অন্তত দশ হাজার লোক ঢাকায় আসেন রেলপথে। এই রুটে নতুন বগি দিলে এবং ট্রেনের সংখ্যা বাড়ালে নিত্যযাত্রীদের সুবিধাও বাড়তো আর সড়কে চাপ কমতো। এমন মতই দিলেন গাজীপুর প্যাসেঞ্জাস কমিটির সভাপতি।
এক সময় কাগজে কলমে সারাদেশে রেলের সম্পত্তি ছিলো ৬১ হাজার একর। বর্তমানে রেল ব্যবহার করছে ২০ হাজার একরের কিছু বেশী। তথ্যানুযায়ী বিভিন্ন সময়ে বেদখল ও লিজ দেয়া হয়েছে বিশ হাজার একরের মতো জমি। আর, বাকী জমি কোথায় গেলো? এর কোন পরিসংখ্যান্ও নেই, প্রশ্নের উত্তরও নেই কারো কাছে।
সারাদেশেই রেলের জমি বেদখল হয়েছে। রাজধানীর জুরাইন, কদমতলীতে গিয়ে দেখা যায় অনেক স্থাপনা রেলের জায়গাতেই। কারওয়ান বাজারের দখল সকলের জানা। পুরো ঢাকাতেই রেল লইনের দুই পাশ দখল করে বাজার, বস্তি বা বাড়ী তৈরী হয়েছে।
কমলাপুর রেলওয়ে কলোনীতে রয়েছে প্রায় শ-একর জায়গা। কিন্তু ভবন ছাড়া বাকী ভুমি প্রভাবশালীদেও দখলে। কোথাও বাজার, কোথাও গ্যারেজ, কোথাও পাকা বাড়ী, দোকান পাটসহ অনেক স্থাপনা।
শাজাহানপুরে গিয়ে দেখা যায়, রেলপথের দুপাশেই দখলের মহোৎসব। যেন দেখার কেউ নেই।
ঢাকার অদূরে ময়মনসিংহেও রেলের জায়গা দখলের মহোৎসব চলছে। শত শত একর ভুমি দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা
লিজ ট্রেন নিয়ে নানা কথা শুনা যায়। তবে চুক্তি ভিত্তিক এ ট্রেনগুলো লাভে চলে। আগে সরকারি খাতে মাসে যা আয় হতো এখন তা দ্বিগুন হয়েছে।
ঢাকা ও আশপাশের লিজ নেয়া ট্রেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, কেবল ব্যবস্থাপনার গুণে আয় দ্বিগুন হয়েছে।
রেলের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সাথে। তিনি জানান, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেল লাভের চিন্তা করেনা। দুদুক যে সব খাত চিহ্নিত করেছে তার বাইরেও দুর্নীতি হয়।
মন্ত্রী আরো বলেন, জমি দখল করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এগুলো উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়া সব পর্যায়ের দুর্নীতি বন্ধের কথা জানান মন্ত্রী।
রেল সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে- এ প্রত্যায় নিয়ে কাজ করার কথা জানান মন্ত্রী।
তবে মন্ত্রীর সঙ্গে ভিন্নমত পোষন করেন পরিবহন বিশেজ্ঞা বুয়েটের অধ্যাপক ডক্টর সামছুল হক। তিনি বলেন, পৃথিবর সব দেশেই রেল সেবামূল প্রতিষ্ঠান। আর সেগুলো লাভেই পরিচালিত হয়। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ বিনিয়োগের ্ও সঠিক ব্যবস্থাপনা।
সেবার মান বাড়ানো জন্য ট্রেনগুলো পাবলিক-প্রাইভোট পার্টরশীপে দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিযোগীতা মূলক সেবা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই রেল বিভাগকে সুবিন্যাস করতে হবে। আর নিশ্চিত করতে হবে সরকার মনিটরিং কার্যক্রম।
চলমান অবস্থায় চলতে থাকলে ভবিষ্যতে রেল আরো বেশি লোকসানে যাবে বলেও শংকা এ বিশেষজ্ঞের।
রেলওয়েকে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা, নিয়োগে স্বচ্ছতা, ওয়ার্কশপ ও ফ্যাক্টরি সচল করা, ক্রয়, বিক্রয় ও টেন্ডারে পিপিআর অনুসরণ করা, রেলওয়ের সম্পদ রক্ষায় মেবাইল কোর্ট পরিচালনা, অডিট জোরদার করা, রেলওয়ের সম্পদের জিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি, কোচ আমদানি এবং নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে নির্মানের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা, আর মনিটরিং ও তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়নই পারে রেলকে জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করতে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com