বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেছেন, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার স্বামী শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর (এসপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারের আগেই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার জানান, যারা হত্যাকারী ছিল তাদের সঙ্গে মিন্নি হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় অংশ নেন। সে শুরু থেকেই তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এই হত্যাকান্ডের আগে এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছুই তিনি করেছেন।
এসপি মারুফ হোসেন জানান, তিনি হত্যাকারীদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিংও করেছেন। মিন্নি স্বীকার করেছেন বলেই আমরা এই বিষয়গুলো আদালতের কাছে তুলে ধরে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রিমান্ড আবেদন করেছি এবং আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বরগুনা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, একাধিক আসামি আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত ১০ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডের সঙ্গে সংশি¬ষ্টতার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।(বাসস)