August 14, 2019, 9:34 pm

গাইবান্ধায় ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক প্রতি মণ ধানে মিলছেনা একজন শ্রমিক

গাইবান্ধায় ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক প্রতি মণ ধানে মিলছেনা একজন শ্রমিক

 

এইচ.আর.হিরু.গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধায় চলতি ইরি বোরো ধান নিয়ে মহা বিপাকে কৃষক উৎপাদ খরচ বাদে প্রতি মণ ধানের মুল্যে যা পাচ্ছে তা একজন
শ্রমিকের চেয়েও কম।
রোদে শরীর পুড়িয়ে. বৃষ্টিতে ভিজে যেসব কৃষক দেশেরজন্য খাদ্য উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত। তাদের উৎপাদিত খাদ্য শস্য(
ধান কাটা) নিয়ে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট । বাজারে ধানের নির্ধারিত মূল্যে অনুযায়ি পারিশ্রমিক মিটাতে পারছেনা কৃষক। ধান
চাষ যেনো কৃষকের গলায় কাটা হয়ে প্রতিনিয়ত যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে।
কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি বর্তমানে সময়ের দাবী। উৎপাদন খরচ না উঠায় এবং লোকসানের কারণে ধান চাষের প্রতি
আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। যা ভবিষ্যতের জন্য হতে পারে মারাত্মক সংকটসহ মহাবিপদ। ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির আশায় তারা দাবি
আদায়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলেও মিলছে না কোন সাড়া। সমস্যা সমাধানে ধানের ন্যায্য মূল্য
পুনঃনির্ধারণ করে কৃষি খাতে ভর্তুকি বাড়িয়ে ফসলের উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষকদের লোকসান
পুষিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে কৃষিতে আরো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎসাহী করা এ মুহূর্তে খুবই দরকার।
গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলায় বোরো ধান কাটা মাড়াইয়েল ভরা মৌসুম চলছে। কিন্তু ধান কাটা শ্রমিকের চরম সংকট দেখা
দিয়েছে। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। কেননা একজন শ্রমিক ধান কাটতে সাড়ে ৪00 টাকা থেকে ৫00 টাকা
মজুরী নিয়ে থাকে। আবার চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের দ্বারা এক বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিক খরচ লাগছে ৪ হাজার টাকা। ফলে এ
জেলার বোরো চাষিরা বিপাকে পড়েছে। জমিতে উৎপাদিত ধান বিক্রি করেও খরচ উঠা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
বৃষ্টি ও প্রখর রোদ থাকায় এবার জমির ধান একসাথে দ্রুত পেকে গেছে। একযোগে ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিকের তীব্র সংকট
দেখা দিয়েছে। নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৪00 থেকে ৪৫০ টাকা দরে। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি হাকানো হচ্ছে
সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। শ্রমিকের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। গত কয়েক
দিনের ঝড়ো হাওয়ার কারণে মাঠের বেশির ভাগ ধান বাতাসে নুইয়ে পড়ায় শ্রমিক লাগছে তুলনামূলক বেশী।
মাঠে মাঠে স্বপ্নের সোনালী ধান থাকলেও কৃষকের মুখে নেই হাসি। এক বিঘা জমিতে বোরো ২৮ জাতের চিকন ধান চাষ করতে
জমি চাষ. তেল.সেচ.সার. কীটনাশক শ্রমিকসহ মোট খরচ পড়ছে সাড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে ওই ধান চাষ
করে ফলন পাওয়া যাচ্ছে ১৬মণ থেকে২০ মণ।
কিন্তু বাজারে বোরো ২৮ জাতের ধানের মূল্য এখন সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। মৌসুম সময়ে উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে দরিদ্র
কৃষকের পক্ষে ধান মজুদ করে রাখা কোনক্রমেই সম্ভব নয়। ফলে তারা বর্তমান বাজার দরেই বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করছে।
এতে এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। যা দিয়ে সে উৎপাদন ব্যয় মিটানোর পর
উদ্বৃত্ত থাকছে না কৃষকের ঘরে কোন ধান ও ধন। অনেক পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করা সত্ত্বেও ন্যা্য্য মূল্য না পাওয়া
এবং লাভ না হওয়ায় ধান চাষ করতে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। বিভিন্ন জেলায় নিজের উৎপাদিত ধানে আগুন জ্বালিয়ে মৌন
প্রতিবাদে আশ্বাস মিলছেনা। অথচ ফুর ফুরে ও জামাই আদরে রয়েছে কামলা।মোট অংকের মজুরী.মাছ বা গোস্ত
দিয়েভাত.জরদ্দাভরা সোহাগী খিলিপান.নেভী বা স্টার সিগারেট সহ আরাম আয়েশের জায়গা।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com