সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ ।

পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ ।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আনা বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ মামলা বাতিলে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে জারিকৃত রুল খারিজ করে আজ রায় দেয় বিচারপতি মো.নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “মামলা বাতিলে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। এখন নিম্ন আদালতে এ মামলা চলতে বাধা নেই। এছাড়া এ মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।”
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাসেম ফকির দন্ডবিধি আইনের ৪০৯/১০৯ তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।
খালেদা জিয়া ছাড়াও আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।
এ মামলায় আসামিদের বিষয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য বিচারিক আদালতে কাল ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য আছে। গত ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর বকশিবাজারে অবস্থিত ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এই তারিখ ধার্য করে আদেশ দেয়।
দীর্ঘ দিন ব্যারিস্টার আমিনুল হকের পক্ষে মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত ছিল বিধায় বিচারিক আদালতে মামলার চার্জ গঠন করা সম্ভব হয়নি। ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি বাতিলের জন্য ফৌজদারি বিবিধ মামলা দায়ের করলে ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এই মামলায় রুল ও স্থগিতাদেশ দেয়। আজকের রায়ের ফলে এখন মামলাটির কার্যক্রম চলতে আর কোন আইনগত বাধা রইলো না। এর আগে এ মামলার বৈধতা নিয়ে খালেদা জিয়ার করা রিট ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। (বাসস)

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com