শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর শাটডাউনের প্রভাব পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর শাটডাউনের প্রভাব পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মানের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রনেতাদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্ম আংশিক বন্ধ রয়েছে চার সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে। এ অবস্থার অবসানকল্পে নানা প্রয়াসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ওভাল অফিসে দেয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিন সীমান্তে মানবাধিকার সংকট চলছে এবং তার প্রতি জরুরীভাবে নজর দেয়া দরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো বাংলাদেশি অধ্যুষিত রাজ্যই শাটডাউনের প্রভাব কোনো না কোনোভাবে পড়েছে। ফ্লরিডার একটি ছোট শহরে বসবাস করেন সাধারন ব্যবসায়ী বখতিয়ার কি প্রভাব পড়েছে শাটডাউনের এমন প্রশ্নে তিনি জানান।

ঘরে থেকে সন্তানদের দেখাশোনা করেন নিউইয়র্কের গৃহিনী মিসেস খোকন। শাটডাউনের প্রভাব সম্পর্কে তার মন্তব্য জানতে চাইলে বললেন এটা বন্ধ হওয়া দরকার।

পেনসেলভেনিয়ার বাংলাদেশী আমেরিকান মফিজুল ইসলাম জানালেন তার শহরে শাটডাউনের প্রভাব পড়েছে সর্বত্রই।

আটলান্টিক সিটির হোলসেলার সালেহ আহমেদ লিটন আশা করেন

দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে এবং ব্যবসাবানিজ্যসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেসকল ক্ষেত্রে শাটডাউনের প্রভাব পড়েছে তা দ্রুত কেটে যাবে।

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলমান শাটডাউন বা কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মের বন্ধ অবস্থা খুলে দেয়ার লক্ষ্যে দেয়া তাঁর পরিকল্পনায় সীমান্ত দেয়াল নির্মানের অর্থ বরাদ্দের বিপরীতে ডাকা কর্মসূচীর সময়সীমা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন। ডাকা অর্থাৎ শিশু অবস্থায় বাবা মার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর বাবা বার কাগজপত্রবিহীন অবস্থা থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িক বৈধতা পাওয়া কর্মসূচী আরো বর্ধিত করার কথা বলেছেন।

তবে বিরোধী ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হয়নি। হাউজ স্পিকার ন্যান্সী পেলোসী বলেছেন, শাটডাউন নি:শর্তভাবে বন্ধ করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্ম পুরোপুরি চালু করতে হবে আগে, তারপর অন্য আলোচনা।

শনিবার বিকালে হোয়াইট হাউজের ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি শাটডাউন বন্ধ করে ফেডারেল সরকারের কাজকর্ম চালু করার লক্ষ্যে ডেমোক্রেটদের সঙ্গে সমঝোতার জন্যে প্রস্তুত।

বলেন দক্ষিন সীমান্তে স্টিলের দেয়াল নির্মানের জন্যে যে প্রায় ৬ মিলিয়ন বা ৬০০ কোটি ডলার দরকার তা বরাদ্দে রাজী হলে তিনি ডাকা কর্মসূচী ৩ বছরের জন্যে বাড়াতে রাজী আছেন।ডাকা কর্মসূচীর আওতায় থাকা ৭ লাখ তরুন তরুনী যারা বাবা মার সঙ্গে শিশু অবস্থায় এদেশে এসেছে এবং পরে অবৈধ হয়েছে, তাদেরকে কাজের অনুমতি, সোশাল সিকিউরিটি দেয়া এবং বহিস্কারাদেশ বন্ধ ৩ বছরের জন্য সময় বাড়ানো হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্য ওই পরিকল্পনার দ্বিতীয় প্রস্তাব হিসাবে টিপিএস কর্মসূচীর সময় বাড়ানোর কথা বলেন, “যারা টিপিএস বা সাময়িক অনুমতিতে আছেন, তাদের ওই কর্মসূচী ৩ বছরের জন্য বাড়ানো হবে”।

তিনি বলেন, “আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থা আনেক আগে থেকেই ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। তারই ফল ভোগ করছি আমরা”। সেজন্য এই পরিকল্পনা গ্রহন করার জন্য তিনি বিরোধী পক্ষের প্রতি আহবান জানান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “এটি দুই দলের জন্যেই মাঝামাঝি অবস্থায় থাকার মতো একটি সমঝোতা এবং এটা গ্রহন করা উচিৎ। বামপন্থীরা কখনোই আমাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রন করতে পারবে না। আমি তা হতে দেবো না। দেয়াল চিরস্থায়ী নয়। এর মাধ্যমে বহু মানুষের জীবন রক্ষা হবে, বাইরে থেকে আমাদের দেশে মাদক আসা বন্ধ হবে”।

দশ মিনিটের বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন দক্ষিন সীমান্ত দিয়ে শুধু অবৈধ অভিবাসি নয়, মাদক চোরাচালান হচ্ছে। এসব বন্ধ করা দরকার।

হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানান তারা আশা করছেন মধ্যপন্থী ডেমোক্রেটরা প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন। অন্যেরা ইতিমধ্যেই বলেছেন প্রেসিডেন্টকে আগে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্ম চালু করতে হবে। তারপর অভিবাসন বিষয়ক আলোচনা। স্পিকার ন্যান্সী পেলোসি প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনাকে বলছেন- এটা সংকট সমাধানের পক্ষের মত নয়।

ভয়েস অব আমেরিকার হোয়াইট হাউজ ব্যুরো প্রধান স্টিভ হারমানের মত হচ্ছে প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে। অনেকে বলছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসন বিষয়ে ছাড় দিচ্ছেন না এই ভেবে যে আগামী বছর নির্বাচনে এতে ফলাফল তার বিপক্ষে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দীর্ঘতম সময়ের জন্যে চলছে এই শাটডাউন বা কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মের আংশিক বন্ধ অবস্থা। যুক্তরাস্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার খরচ বাবদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবীকৃত ৫.৭ বিলিয়ন বা ৫৭০ কোটি ডলার বরাদ্দে ডেমোক্রেট আইনপ্রনেতারা রাজী না হওয়ায় ফেডারেল সরকারের বাড়তি ব্যায় বরাদ্দে বরাদ্দ আটকে যায় এবং ২২শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় শাটডাউন। এই অবস্থা বন্ধ করে সরকারী কাজকর্ম খোলার দাবীতে ফেডারেল কর্মীরা বিক্ষোভ পর্যন্ত করে।

এই মুহুর্তে আমাদের বেতন চাই- এই স্লোগান মুখে নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের। শাটডাউন বন্ধের দাবীতে সোচ্চার তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্রই।

ফেডারাল সরকারের কর্মচারীদের অনেকেই চলছেন অন্যের সাহায্য নিয়ে। আত্মীয়, বন্ধু অনেকেই খাদ্য, নগদ অর্থ দিয়ে সাহায্য করছেন বেতন বন্ধ হওয়া ৮ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরদের অনককে। তারা কেউ কোনোদিন হয়তো ভাবেনইনি যে তাদেরকে অন্যের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে চলতে হবে। এদের জন্যে ফুড ব্যংক খোলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এমনকি যে সকল স্কুল শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফ্রি ও কম মূল্যের খাবার পায় তাদের অনেকেও এই ফুডব্যাংকে বেতন না পাওয়া সরকারী কর্মচারীদের জন্যে দান করছে।

নর্থ ক্যারোলাইনার স্কুলে শিক্ষার্থীদের লাঞ্চ আইটেম কমিয়ে কিছু খাবার বাঁচিয়ে ডোনেট করা হচ্ছে ফুড ব্যংকে। এই শাটডাউনের প্রভাব পড়ে সরকারী বেসরকারী সকল পর্যায়ে। আমাদের সহকর্মী মারিয়ামা দিয়ালা শাটডাউনের প্রভাব নিয়ে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কথা বলেন ল্যাম্বার্ট নামের এক ফেডারেল অফিসিয়ালের সঙ্গে। তার ৫ ও ৬ বছর বয়সী দুই সন্তানের জন্যে খাবার যোগাড় করা নিয়ে চিন্তিত: “যতো দ্রুত এই অবস্থার অবসান ঘটে, আমাদের মতো স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্যে ততোই মঙ্গল”।

ক্যালিফোর্নিয়য় টিএসএ ইউনিয়ন নেতারা মনে করেন এই শাটডাউন বেশি প্রলম্বিত হয়েছে। তারা আশা করেন এর দ্রুত অবসান।

ওয়াশিংটনে অনেক পরিবার প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে শাটডাউন বন্ধ করে সরকারের কাজকর্ম খুলে দেয়ার দাবীতে। স্মিথ নামের এক দোকান মালিক বললেন কিউভাবে শাটডাউনের প্রভাব পড়েছে তার ব্যবসায়।

আমি এই পনশপ চালাচ্ছি বহুদিন ধরে। নানা ভাবে মানুষকে সহায়তা করে আসছি। এখন পারছি না।শাটডাউন যতো দিন গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি ততোই খারাপ হচ্ছে। প্রতিটি খাতে এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যাবসায়ীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

মোহাম্মাদ বাদাহ নামের এই ফুড ভেন্ডর তারা ট্রাকে করে ফালাফাল বিক্রি করেন ওয়াশিংটন ডিসিতে ২০১৩৪ সাল থেকে। এইবারই প্রথম তাকে এই দুরবস্থার মুখোমুখি হতে হলো। জানালের শাটডাউনের পর তার বিক্রী বন্ধ হয়েছ গেছে অনেকাংশেই।

সাধারনভাবে আগে আমি ৬০-৭০ জন কাস্টমার পেতাম। আজকের হিসাবে আমি মাত্র ১৯ জন ক্রেতা পেয়েছি। অবস্থা খারাপ হতে চলেছে।

বাদাহ বলেন এই অবস্থাই চটলতে থিআকলে সে সংসাল চালাতে পারবে না। আগামী সপ্তাহ নাগাদ এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে তাকে অন্য চাকরী খুজতে হবে বলে জানান বাদাহ।

যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য অভিবাসি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শাটডাউনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশী আমেরিকান পেশাজীবাদের ওপরও। জাকারিয়া চৌধুরী তাদের একজন।

 

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com