সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

কারা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতাকারি? কে এদের ইন্ধনদাতা ?

কারা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতাকারি? কে এদের ইন্ধনদাতা ?

 অ আ আবীর আকাশ
বিস্ময়কর উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে এদেশের আপামর জনতা জনগণের মানুষ কন্যা, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী, জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকাকে ভালবেসে, নৌকায় ভোট দিয়ে চতুর্থ  বারের মতো সরকার গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ জয় শেখ হাসিনার নয়, এ জয় ১৭ কোটি বাঙ্গালীর, এ জয় বাংলা ভাষা-ভাষীদের, এ জয় শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ বা এর অঙ্গসংগঠনের নয়, এ জয় যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবেসেছে,যারা নৌকাকে ভালোবেসেছে, যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেছে, তাদের সবার।
 কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, মহাবিজয়ের মহাঅগ্রযাত্রাকে কলুষিত করার হীন মানুষ, এ নতুন বছরের নতুন দিনেও ধর্ষণ, লুট, ভাঙচুর, মারধর চালিয়েছে নিরীহ জনসাধারণের উপর।কিন্তু কেনো? তারা কারা? তারা কি সত্যিই আওয়ামী লীগ করে ? তারা কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে? তারা কি উন্নয়নের বিশ্ব মডেল শেখ হাসিনাকে সম্মান করে ? শ্রদ্ধা করে ? যদি আওয়ামী লীগ করে তাহলে কেন এ মহা বিজয়ের দিনে তারা আওয়ামী লীগের মান সম্মান ক্ষুন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে এমন ধ্বংসলীলায় উন্মুখ! শেখ হাসিনাকে বহিঃবিশ্বে প্রশ্নবোধক করার জন্য তারা কেন এমন জগন্য ন্যক্কারজনক ঘটনার সূত্রপাত করে ? আর যদি আওয়ামীলীগ না-ই করে তাহলেই বা কেন নিশ্চিত পরাজয় জেনে নিরীহ অসহায় মানুষের উপর রাক্ষুসে তাণ্ডব চালায়?
 নোয়াখালী সুবর্ণচরে নৌকায় ভোট না দেয়ায় নিরীহ সিএনজিচালকের স্ত্রী, সাত সন্তানের জননীকে রাতভর গণধর্ষণ করা হবে কেনো ? স্থানীয় আওয়ামী লীগ বা তার অঙ্গসংগঠন কি এ দায় এড়াতে পারেন ? কিছুতেই না। তারা অপরাধী কে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় সোপর্দ করতে পারেন শীঘ্রই।
লক্ষ্মীপুরে একসময়কার সন্ত্রাসী জনপদ দত্তপাড়ায় ভোটের দিন গোলাগুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তিনি মারা যান। সেখানে দলীয় দায়-দায়িত্বের বাহিরে প্রশাসনও প্রশ্নবোধক। যেহেতু ভোট কেন্দ্রে এমন হতাহতের কান্ড ঘটে।প্রশাসন তখন কী করছিলো!
এছাড়াও লক্ষ্মীপুরে ৩নং দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর ৩নং ওয়ার্ডস্থ জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী বাড়ি, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ি, স্থানীয় সারের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান কাজল এর দোকান, কৃষক শাহজাহানের বসতঘর, বিএনপি-সমর্থক কামরুল ইসলামের বসতঘর ভাঙচুর লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। শুধুমাত্র ভাঙচুর করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, এলাকায় দাম্ভিকতা নিয়ে উল্লিখিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। প্রকাশ্যে জনারণ্যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে -হাত কেটে নেবে, চোখ তুলে নেবে।
 দুর্বৃত্তদের ভয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। দুর্বৃত্তদের কাছে একই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ তহির নিরাপদ নেই বলে জানা গেছে।
 এদের এত শক্তির উৎস কোথায় ? এদের পিছনে ইন্ধন দাতা কে ? নিরীহ সাধারণের বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট করে কি স্বার্থ হাসিল করছেন তিনি? কে সে সন্ত্রাস লালন পালনকারী গডফাদার ? তাকেও খুঁজে বের করে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে দ্রুত।
 দলীয় ইমেজ রক্ষা করতে হলে, দলীয় সমর্থন বাড়াতে হলে এ ধরনের চাটুকার, সন্ত্রাস, ডাকাত, ভূমি খেকো, দখলকার প্রতিহত করতে হবে। নইলে উন্নয়নের স্বর্ণ চূড়ায় পৌঁছানো সম্ভব নয় এসব অপদার্থ চাটুকার নিয়ে।এদের কারনেই দলের বদনাম সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে! এদের প্রতিহত করতেই হবে। এতে কোনো ছাড় নয়, আপোষ নয়।
 যারা দলীয় নাম ভেঙে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ধান্দাবাজি করে তাদের দল থেকে দ্রুতই বহিষ্কার করে সুষ্ঠুভাবে দেশকে উন্নয়নের স্বর্ণ চূড়ায় পৌঁছাতে সহযোগিতা করবেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
 মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ চতুর্থ বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে জনসাধারনের অকৃপণ ভালোবাসা ও সমর্থনে। লক্ষ্মীপুরে অলক্ষী দূর করতে চারটি আসন এবার জনগণ আওয়ামী লীগ তথা উন্নয়নের  উন্নয়নকান্ডারী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়েছে। শুধুমাত্র দেশকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করতে নিরীহ জনসাধারণকে মারধোর, ধর্ষণ, হত্যা, লুট, ভাঙচুর, দখল, চাঁদাবাজি করতে নয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পাদক এসব অপকর্ম ও অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় না দিয়ে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে আইনের হাতে সোপর্দ করে দলের ইমেজ রক্ষা করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com