বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসন  খালেদার ঘরে আ.লীগের রাজত্ব !

লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসন  খালেদার ঘরে আ.লীগের রাজত্ব !

অ আ আবীর আকাশ:
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসন খালেদার ঘর হিসাবে পরিচিত। এখান থেকে খালেদা জিয়া দুইবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় আসনটিতে ছিলো বিএনপির শক্ত অবস্থান। কিন্তু দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করায় বিজয় নিশ্চিত দেখছেন মহাজোট প্রার্থীর। এ যেন খালেদার ঘরে আওয়ামী লীগের রাজত্ব।
খালেদার ঘর হিসাবে খ্যাত এই আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন ১৮ জন। কিন্তু এখানে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশিদের চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়নি। দিয়েছেন মহাজোটের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির লক্ষ্মীপুর সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ মোহাম্মদ নোমানকে। দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় শুরুতে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও বর্তমানে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মহাজোট মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করছেন। প্রতিক পাওয়ার পর থেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে ছুটে যাচ্ছেন সবাই ভোটারদের কাছে। তুলে ধরছেন সরকারের উন্নয়ন কর্মকন্ড। অন্যদিকে মোহাম্মদ নোমান ক্লিন ইমেজের হওয়ায় মহাজোট কর্মীদের বাইরে সাধারণ ভোটারদের মাঝে রয়েছে ব্যাপক গ্রহযোগ্যতা। তাইতো তিনিও রাতদিন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন পুরো আসনজুড়ে। এ যেন খালেদার ঘরে আওয়ামী লীগের রাজত্ব।
এদিকে শিল্পপতি শহিদুল ইসলাম পাপুল আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন আপেল মার্কা নিয়ে। স্বতন্ত্র প্রার্থী পাপুলের পক্ষে কাজ করায় ইতিমধ্যে যুবলীগ নেতা কামালসহ ৭ জনকে বহিস্কার করেছে আওয়ামী লীগ। একটি বিশ^স্থ সুত্রে জানা যায়, মানবিক রাজনীতি করায় আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ গোপনে কাজ করছেন পাপুলের পক্ষে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন, শেষ পর্যন্ত শহিদুল ইসলাম পাপুল মহাজোট প্রার্থী মোহাম্মদ নোমানকে সমর্থন করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন শেখ হাসিনার সন্মানার্থে।
এই আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূইয়া। এখানে জামায়াতের রয়েছে শক্ত অবস্থান, তাইতো শুরু থেকেই আসনটি পাওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছিলো জোটের কাছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত হওয়ায় হতাশ নিবন্ধনহীন জামায়াতের তৃণমূলের কর্মীরা। তাদের মধ্যে চলছে দা-কুমড়া সম্পর্ক। অন্যদিকে দীর্ঘ ১০ টি বছর ও সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীরা পাশে পায়নি এই এমপি প্রার্থীকে। বিএনপির কর্মীদের ভাষ্যমতে তিনি শুধু ভোট এলেই কর্মীদের কাছে আসেন, দেন নানা প্রতিশ্রুতি। বর্তমানে এই আসনটিতে বিএনপির জয় নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়।
বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী আবুল খায়ের ভূইয়া বলেন, এখানে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরাও ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। আমাদের মধ্যে কোন কোন্দল নেই। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি, তাই এখানে সুষ্ট নির্বাচন হলে ধানের শীষের বিজয় শতভাগ নিশ্চিত বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান বলেন, আসনটিতে জাতীয় পার্টির ভোট পূর্বের চেয়ে কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোটতো রয়েছেই। এছাড়াও সাংসদ থাকাকালীন আসনটির এমন কোন এলাকা নেই যেখানে আমার মাধ্যমে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। তাই তিনি এবারও এখানে বিজয় হবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন সাধারণ জনগণ ও দলীয় কর্মীদের পাশে না থাকায় বিএনপি আজ জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিনত হয়েছে। তাইতো সাধারণ জনগণ তাদের থেকে মুখ পিরিয়ে নিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com