বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় লক্ষাধিক প্রবীণ রোহিঙ্গা।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় লক্ষাধিক প্রবীণ রোহিঙ্গা।

মানুষ স্বভাবতই ফিরে যেতে চায় শৈশবে, কৈশোরে। কিংবা ধরে রাখতে চায় তারুণ্য। সাদা চুলগুলো ঢেকে দিতে চায় কালো রঙ দিয়ে। চামড়ার ভাঁজ লুকাতে চায় নানা কায়দায়। কিন্তু মানুষ প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই সময়ের লাগাম টেনে ছুটে যায় বার্ধক্য পানে।
অথচ বয়স বাড়ার সাথে সাথেই বেড়ে চলে অভিজ্ঞতা, ইতিহাসের অনেক কিছুরই সাক্ষী হয়; অনেকেই হয়ে উঠেন ইতিহাসের অংশ। এরপরও মানুষ বার্ধক্যকে যেন এড়িয়ে যেতে চায়।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকালে প্রবীণদের কর্মে অক্ষম বিবেচনা করে অস্বীকার করা হয় কিছু অভিজ্ঞ মানুষের অবদানকে।
কিন্তু প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারলে এগিয়ে যেতে পারে জাতি, দেশ তথা মানুষ। প্রবীণরা হতে পারেন সম্মানিত। পেতে পারেন যথাযথ অধিকার এবং সেবা।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন লক্ষাধিক প্রবীণ রোহিঙ্গা। যারা কিনা শুনান সেই ১৯৩৭ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার কাহিনী। তারা নিজেরাও শরণার্থী হয়েছেন বেশ কয়েকবার। ৭৮ বছর বয়সে পঞ্চম বারের মতো শরণার্থী হয়ে উখিয়ার থাইংখালী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন ছৈয়দ উল্লাহ। তিনি বলেন, তার বয়স বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা কমিয়ে ফেলার কাহিনী।
হেল্প এইজ ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় কক্সবাজারের ৬টি ক্যাম্পে ১০টি প্রবীণ বান্ধব কেন্দ্র পরিচালনা করছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইপসা এবং রিক। এছাড়া নানাভাবে প্রবীণদের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা সংকটে গঠিত জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন ইন্টারসেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ সংক্ষেপে আইএসসিজি’র মুখপাত্র সৈকত বিশ্বাস।
জীবনের একেবারে শেষ সময়ে শরীর ও মনে যে ব্যথা নিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গা প্রবীণরা, তা কিছুটা হলেও লাঘবের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এখন অনেকেই স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।
২৪ হাজার প্রবীণ বিশেষায়িত সেবার আওতায় আসলেও এখনো বাইরে রয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার প্রবীণ। তাদেরও বিশেষায়িত সেবার আওতায় আনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন হেল্পএইচ ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাবেয়া সুলতানা।
সবাইকেই একসময় প্রবীণ হতে হবে, তা মাথায় রেখেই এখন থেকে প্রবীণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিক কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
কেবল রোহিঙ্গা নয়; প্রবীণ সবখানেই, স্থান-কাল ভেদে সম্মানিত হবেন। মূল্যায়িত হবে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা। বার্ধক্যজনিত প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন প্রবীণরা। তারুণ্য ধরে রাখার অহেতুক চেষ্টা কিংবা শৈশব, কৈশোরে ফেরার আকুতি ভুলে মানুষ বরণ করে নেবেন বার্ধক্যকে।
আর প্রবীণ রোহিঙ্গাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে একদিন মিয়ানমারে ফিরে যাবেন রোহিঙ্গারা। এমনটাই ভাবছেন রোহিঙ্গা প্রবীণরা।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com