সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৬:১৭ অপরাহ্ন

শরীকদের জন্য ৭০টি আসন রেখেছে বিএনপি।

শরীকদের জন্য ৭০টি আসন রেখেছে বিএনপি।

২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরীকদের জন্য  ৭০টি আসন রেখে বাকি ২৩০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে রবিবার থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চারদিন ব্যাপী সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু করেছে বিএনপি।

‘নতুন ও তরুণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়ার’ অভাস দিয়ে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ইউএনবিকে বলেন, তাদের মধ্যে কিছু সাবেক ছাত্রদল নেতাও রয়েছে। তারা নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় পুরোনো নেতাদের চেয়েও জনপ্রিয়।

তারা আরও জানান, বিএনপি ও তাদের জোট বেশ কিছু আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য এবং নারীদের থেকেও প্রার্থী দিবেন। যা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের আকৃষ্ট করবে।

দলের একটি সূত্র জানায়, তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে পরিচালিত একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। তার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন দেয়া হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তারেক রহমান মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন এবং যাকেই প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হোক বা না হোক বিজয় নিশ্চিত করার জন্য তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দিচ্ছেন।

বিএনপি নেতারা বলেন, তাদের প্রধান প্রার্থী ছাড়াও প্রতিটি আসনে তিনজন ডামি প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দল ও জোটের পক্ষে মাঠে থাকবে। এছাড়া ভোটের দিন ৪২ হাজার ভোট কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে যাতে একাধিক এজেন্ট নিশ্চিত হয়।

তারা আরও বলেন, এ কৌশল এ জন্য নেয়া হয়েছে যে, কোনো কারণে তাদের প্রধান প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল হলে যাতে ডামি প্রার্থীকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রার্থীতা নিশ্চিত করা যায়। এ কৌশল নেয়া হয়েছে নিরাপদ থাকার জন্যই।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, কৌশলগত কারণে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের এক বা দুদিন আগ পর্যন্তও তারা তাদের দল বা জোটের প্রার্থী তালিকার চূড়ান্ত ঘোষণা দিবেন না।

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারা এবং তাদের জোট প্রতিটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও তার জোটের প্রার্থী তালিকার বিষয়ে নজর রাখছেন। তারা মনে করে, আওয়ামী লীগ তাদের শরীকদের সাথে যে আসনগুলো ভাগাভাগি করবে সেখানে ক্ষমতাসীনদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে হবে। আর এতে বিএনপি বা তার জোটের জয়ী হতে তুলনামুলক সহজতর হবে।

‘আমরা জানি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে জয়ী হতে হলে একটি ভালো ও কার্যকরি কৌশল নিয়ে এগুতে হবে। সুতরাং প্রার্থী চূড়ান্ত এবং পোলিং এজেন্ট নির্বাচনের মতো প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের কৌশলী হতে হবে,’ বলেন বিএনপি নেতা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বিএনপির টিকিট পেতে ৪ হজার ৫৮০জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম সংগ্রহ করেছেন।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা ইউএনবিকে বলেন, তারা এখনও ২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত করেনি। তবে শরীকরা তাদের প্রার্থীদের একটি বড় তালিকা দিয়ে তা সুরাহ করতে চাপ দিচ্ছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি (জেএসডি) আ স ম আবদুর রব ১৩২ এবং নাগরিক ঐক্য ৩২ জনের পৃথক তালিকা দিয়েছে।

তবে, গণফোরাম এখনও কোনো তালিকা প্রদান করেনি। তাদের দলের নেতারা বলছেন, তারা আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে যুক্তিসংগত অবস্থানে থাকবেন এবং তারা আশা করছেন বিএনপি তাদের ২০ থেকে ২৫ আসনে ছাড় দিবে।

এছাড়া গণফোরামের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচন করতে চান এমন কয়েকজনের তালিকা প্রকাশ করেছেন ড. কামাল হোসেন। ওই তালিকার বেশ কয়েকজন বেশ পরিচিত। পাশাপশি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়াও আরও ১০টি আসন চায়।

এদিকে ২০ দলীয় জোটের অংশীদারদের মধ্যে জামায়াতে ইসলাম ৪০টি আসন, এলডিপি ও খেলাফতে মজলিশ ২০, বিজেপি ৩, জাতীয় পার্টি (জাফর) ১৫, কল্যাণ পার্টি ৫, জামায়াত-ই-উলামা-ইসলাম ৬ ন্যাপ এবং এনডিপি ৬, জাগপা ও এনপিপি ৪, ডেমোক্রেটিক লীগ এবং সাম্যবাদী দল ৪, মুসলিম লীগ ২, লেবার পার্টি ২ আসন চায়। এছাড়া আরও চারটি দল তাদের শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন চেয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আসন ভাগাভাগি নিয়ে দল ও জোটের অংশীদারদের আলোচনা চলছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাবেন।

তিনি বলেন, তাদের প্রত্যেকটি আসনের মধ্যেই অনেক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে।  তবে তারা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবে।

মোশাররফ বলেন, তাদের বিশ্বাস দল ও জোটের অংশীদারদের মধ্যে ৩০০টি আসনে  প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে  না, কারণ  ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে চায়।

আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আসন ভাগাভাগি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, তারা সফল হতে পারে এমন যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবে। ‘আমরা সবাই একমত যে এমন প্রার্থী মনোনীত করা হবে যারা জয় হবার সেরা সুযোগ আছে।’

দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিটি আসনে এমন অনেক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা খুবই কঠিন।

তিনি বলেন, আমরা দক্ষতা এবং খুবই মসৃণতার সাথে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে চাই্। অমরা জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা, ক্ষমতা ও যোগ্যতাকে বিবেচনা রেখেই তা করবো।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com