রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রথম পর্যায়ের প্রত্যাবাসন।

বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রথম পর্যায়ের প্রত্যাবাসন।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রথম পর্যায়ের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সহযোগিতায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে প্রত্যাবাসনের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়’ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর।

মঙ্গলবার এ তথ্য জানান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা এক সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন শুরু করার উদ্দেশে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রত্যেক দিন ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার কাজ চলবে।’

তিনি বলেন, ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে যাতে কেউ বাধ্য হয়ে শিবির ছেড়ে না যায়।

কর্মকর্তারা জানায়, ১৫-৩০ নভেম্বর প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসনে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের গ্রামভিত্তিক তালিকা দিয়েছে মিয়ানমার।

এর আগে ১৫ নভেম্বর থেকে প্রথম পর্যায়ে ৪৫০ জন হিন্দুসহ ৪৮৫ পরিবারের মোট ২,২৬০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার বিষয়ে সম্মত হয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মোট ৪৫০ জন হিন্দু স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায় এবং তাদের মধ্যে ৬৬ জনের বৈধ দলিল রয়েছে।

দু’দেশের মধ্যে সবশেষ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ২২ হাজার ৪৩২ জন রোহিঙ্গার নতুন তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ।

এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৪৩২ জন রোহিঙ্গার নাম-পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সেক্রেটারি মিয়ান্ট থু জানান, তারা প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাই করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী দ্বারা অত্যাচার নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়ে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়।

শুরুতে মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থনীতি ও পরিবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ।

এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা তথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ এবং রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং মিয়ানমারের কঠোর সমালোচনা করে আসছে।

বস্তুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই চাপের মুখেই মিয়ানমার তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হতে পারে সে ব্যাপারে কোনো দেশের কাছে সুস্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও এটি যে দীর্ঘ সময় লাগবে সে ব্যাপারে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com