December 11, 2018, 7:54 pm

সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় নামছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাকিস্তানকে আর এক ডলারও সাহায্য করা উচিত হবে না:নিকি হ্যালি। আমি শ্বাস নিতে পারছি না। শ্বাস নিতে পারছি না মৃত্যুর আগে সাংবাদিক জামাল খাশোগির। ৭৮ জন মহিলাকে খুন, অভিযুক্ত রাশিয়ার এই প্রাক্তন পুলিশকর্তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায় একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ এবং সত্যিকারের নির্বাচন উন্নয়নের স্রোত ধরে রাখতে নৌকায় ভোট চাইলেন-বিমান মন্ত্রী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৪ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীদের অবদান চির স্মরণীয় : শেখ হাসিনা আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। বাংলাদেশ জিতেছে পাঁচ উইকেটে
জলন্ত অগ্নিপিণ্ড হয়ে উঠছে পৃথিবী

জলন্ত অগ্নিপিণ্ড হয়ে উঠছে পৃথিবী

জলন্ত অগ্নিপিণ্ড হয়ে উঠছে পৃথিবী। নেভানোর জন্য সময় মাত্র দশ বছর। আর লক্ষ্যপূরণ না হলে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভয়ঙ্কর বিপদ। মানব সভ্যতার জন্য অপেক্ষা করছে মহাপ্রলয়ের মতো বিপর্যয়। জাতিসংঘ নিয়োজিত ‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (আইপিসিসি)-এর বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন ছিল শুধুই বিপদের আগাম পূর্বাভাস। এবার সরাসরি তার ফল ভুগতে শুরু করেছে মানবগ্রহ। আর পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্রীষ্মকালের স্থায়ীত্ব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। মেট্রো শহরগুলি হয়ে উঠতে পারে ‘তপ্ত দ্বীপ’।

সোমবারই দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে আইপিসিসি-র বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্ট বলা হয়েছে, প্রথমবারের জন্য পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পৌঁছে গিয়েছে ১ ডিগ্রিতে। কমার পরিবর্তে বেড়েই চলেছে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমণ। তার জেরে অ্যান্টার্টিকা আর গ্রিনল্যান্ডে বরফ গলনের হার আরও বাড়ছে। আরও উষ্ণ হচ্ছে পৃথিবী। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০-এর মধ্যে এই মাত্রা পৌঁছে যাবে দেড় ডিগ্রিতে। এই কারণেই ভয়ঙ্কর এবং অভূতপূর্ব উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীর তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি বেড়ে গেলে কী কী হতে পারে, তার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অ্যান্টার্কটিন্টা ও গ্রিনল্যান্ডে আরও দ্রুত গলবে বরফ। দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতা বাড়লে তার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বেই। পাহাড়প্রমাণ হিমশৈল তথা বরফের চাঁই গলে সমুদ্রের জলে মিশবে। আয়তন বাড়বে জলভাগের। জলস্তরের উচ্চতা তখন আর ইঞ্চিতে নয়, প্রতি বছর ফুটের হিসাবে বাড়বে। ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে বাস্তুতন্ত্র। আর তারপর এক সময় অপেক্ষা করতে হবে শুধুই মহাপ্রলয়ের।

মুক্তির উপায় হিসেবে বিজ্ঞানীদের দাবি, এখনও পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়নি। সহজ সরল ভাষায় বুঝিয়েছেন, মুক্তির দু’টিই শর্ত। হয় কার্বন ডাই অক্সাইড তথা গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে হবে, নয়তো এমন কিছু করতে হবে, যাতে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়া গ্রিন হাউস গ্যাস শুষে নেওয়া যায়। এবং এই শুষে নেওয়া বা পরিশুদ্ধ করার পরিমাণ হতে হবে নির্গমণের থেকে বেশি।

নির্গমণ কমানোর জন্য বরাবরের মতোই আবারও অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহারে জোর দেওয়ার কথাও বলেছেন বিজ্ঞানীরা। সৌরশক্তি, জলবিদ্যুতের ব্যবহার ব্যাপক হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, এটা করলে অন্তত ২০৫০ সালের মধ্যে ফের জলবায়ুর ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। না হলে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত বিজ্ঞানীদের।

রিপোর্ট পেশের পর সাংবাদিক সম্মেলনে আইপিসিসি-র চেয়ারপার্সন হোসিয়াং লি বলেন, ‘‘বিশ্ব উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বেঁধে রাখা অসম্ভব নয়। তবে তার জন্য সমাজের সব স্তরে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রাক্তন বিশেষ দূত ম্যারি রবিনসন বলেন, ‘‘আমাদের নিজেদের রক্ষা করার জন্য নিজেদেরই পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের সময় খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু দায়িত্ব বিশাল।’’

কীভাবে তৈরি হয়েছে জাতিসংঘের এই রিপোর্ট। সারা বিশ্ব থেকে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রায় ছ’হাজার উদাহরণ নিয়ে সেগুলি বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। বিশ্বের কয়েক হাজার পরিবেশ বিশারদ ও বিজ্ঞানীর মতামত নেওয়া হয়েছে। ৪০টি দেশের ৯১ জন লেখক ও সম্পাদক এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন।-আনন্দবাজার পত্রিকা

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com