শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

বনানী কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সদ্য প্রয়াত প্যানেল মেয়র মোঃ ওসমান গণি

বনানী কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সদ্য প্রয়াত প্যানেল মেয়র মোঃ ওসমান গণি

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর: সর্বসাধারণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বনানী কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সদ্য প্রয়াত প্যানেল মেয়র মোঃ ওসমান গণি। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আজ বেলা পৌনে ১২টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট SQ448 যোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তাঁর মৃতদেহ আনা হলে ডিএনসিসি-র প্যানেল মেয়র-২ মোঃ জামাল মোস্তফা, প্যানেল মেয়র-৩ আলেয়া সারোয়ার ডেইজী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেসবাহুল ইসলাম তা গ্রহণ করেন।

এরপর বাদ জোহর তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা গুলশানস্থ আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন, এ কে এম রহমুতুল্লাহ এমপি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্যানেল মেয়র-২ মোঃ জামাল মোস্তফা, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন, ডিএনসিসি-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেসবাহুল ইসলামসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, মহানগর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠণের  নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। নামাজে জানাজার প্রাক্কালে সাঈদ খোকন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার কিশোর বয়স থেকে আমি ওসমান গণি চাচাকে চিনি। তিনি একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ। সদা হাস্যোজ্জল এই মানুষটি সকল আন্দোলন-সংগ্রামে নিঃস্বার্থভাবে জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন”। এ কে এম রহমত উল্লাহ এমপি বলেন, “মরহুম ওসমান গণি আমার রাজনৈতিক সাথী। তাঁর সাথে দীর্ঘদিন একসাথে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। তিনি অত্যন্ত সৎ জীবন যাপন করতেন। তিনি ছিলেন সদালাপী ও মিষ্টভাষী মানুষ”। এই সময় আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদ হাসান, প্যানেল মেয়র-২ মোঃ জামাল মোস্তফা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেসবাহুল ইসলাম এবং প্রয়াত প্যানেল মেয়রের ছেলে ব্যারিস্টার মিয়া মোহাম্মদ মাসুম গণি তাপস।

প্রথম নামাজে জানাজা শেষ হলে তাঁর মরদেহ বেলা ২টায় গুলশানস্থ নগর ভবনের সামনে রাখা হয়। এসময় ডিএসসিসি-র মেয়র সাঈদ খোকন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়। তাছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রীর পক্ষে অতিরিক্ত সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্যানেল মেয়র-২ মোঃ জামাল মোস্তফা,  ডিএনসিসি-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেসবাহুল ইসলামসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, কাউন্সিলরবৃন্দ, মহানগর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠণের নেতা-কর্মীবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ ফুল দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।

বেলা তিনটায় তাঁর মরদেহ তাঁর বাড়ী ও নির্বাচনী এলাকা বাড্ডায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ আসর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা আলাতুন্নেছা স্কুল ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বাদ মাগরিব তাঁকে বনানী গোরস্থানে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে ফুসফুসের ক্যান্সার ধরা পড়ার পরে তিনি গত ১৪ আগস্ট চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায়সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, ৪ পূত্র, অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বাদ আসর ডিএনসিসি-র নগর ভবনে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com