বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর হতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর হতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার।

 

বর্তমানে আমাদের দেশের যুব সমাজের অধঃপতনের অন্যতম কারণ হচ্ছে মাদকাসক্তি। মাদকাসক্তির ভয়াল থাবা প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে ফেলছে। দেশব্যাপী মাদকদ্রব্যের বিস্তাররোধ এবং দেশের যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‌্যাবের মাদক বিরোধী অভিযান দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ কর্তৃক বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত মাদক পরিবহনে নিত্য নতুন ও অভিনব কৌশল অবলম্বন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে রাজধানী ঢাকাকে ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। মিয়ানমার হতে নৌ-পথে আগত ইয়াবা ট্যাবলেটের চালানগুলো কক্সবাজার হতে সড়ক, রেল ও বিমানপথে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। র‌্যাব এসকল মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ আনুমানিক ১৭৪০ ঘটিকায় র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন নবীনগর হাউজিং প্রকল্প এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি মোহাম্মদপুর থানাধীন নবীনগর হাউজিং প্রকল্প এর ৬নং রোডের ২৭নং বাসার ২য় তলার পূর্ব পাশের রুমে অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী ১। মোঃ মামুনুর রশিদ (৩৫), পিতা- মোঃ ফয়েজ আহমেদ, সাং- নিয়ামতপুর, থানা- নোয়াখালী সদর, জেলা- নোয়াখালী, বর্তমানে বাসা নং-২৭, রোড নং-০৬, নবীনগর হাউজিং প্রকল্প, থানা- মোহাম্মদপুর, ডিএমপি, ঢাকা, ২। মিনারা বেগম (৩৫), পিতা- মৃত ইসমাইল, সাং- চৌধুরীপাড়া, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার’দ্বয়কে গ্রেফতার করে। এসময় ধৃত মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট হতে ২৫,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ০২ টি মোবাইল ফোন ও ইয়াবা বিক্রিত নগদ ৩০,৫৫০/- (ত্রিশ হাজার পাঁচশত পঞ্চাশ) টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজার মূল্য ১,২৫,০০,০০০/- (এক কোটি পঁচিশ লক্ষ) টাকা।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মামুনুর রশিদ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসা ব্যতীত মোহাম্মদপুর তার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। চায়ের দোকানে বসেই সে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। ইতিপূর্বে সে ছোট খাট ইয়াবার চালান এক স্থান হতে অন্য স্থানে হস্তান্তর করত। উলে¬খিত চালানটি তার রাজধানীর উত্তরার রাজলক্ষ্মী হতে মোহাম্মদপুরে পৌছানোর কথা। তার মোবাইলে এসএমএস করে উলে¬খিত চালানটি হস্তান্তরের জায়গা ও ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার দেওয়ার কথা ছিল।

ধৃত অপর মাদক ব্যবসায়ী মিনারা বেগম পেশায় একজন জ্বালানী কাঠ বিক্রেতা। টেকনাফের জনৈক দ্বীন মোহাম্মদ এর মাধ্যমে সে এই পেশায় নিয়োজিত হয়। দ্বীন মোহাম্মদ তাকে মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফ হতে ঢাকায় পাঠায়। ইয়াবার চালান ঢাকায় পৌছানোর পূর্বেই সে ঢাকাস্থ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে। ঢাকায় আসার পর মামুনুর রশিদ তাকে ফোনে রাজলক্ষ্মী আসতে বলে। তারা দুই জন রাজলক্ষ্মী হতে বর্ণিত চালানটি সংগ্রহ করে মোহাম্মদপুর নিয়ে যায়। বর্নিত চালানটি তাদের ঢাকার অভ্যন্তরে দুই জায়গায় হস্তান্তর করার কথা ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com