সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৪ অপরাহ্ন

ইটালিতে সেতু ভেঙে প্রাণ হারালেন অন্তত ৩৫ জন

ইটালিতে সেতু ভেঙে প্রাণ হারালেন অন্তত ৩৫ জন

প্রবল ঝড়ে হঠাৎ ভেঙে পড়ল সেতুর একটি অংশ। তার জেরে প্রাণ হারালেন অন্তত ৩৫ জন। ইটালির বন্দর-শহর জেনোয়ার শিল্প এলাকায় এ১০ মোটরওয়ের উপরে মোরান্ডি সেতু। তারই ৮০ মিটার অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ।

উপ-পরিবহণ মন্ত্রী এডোয়ার্ডো রিক্সি মৃতের সংখ্যা জানিয়ে বলেছেন, জখমের সংখ্যা অন্তত ৮। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে চার জনকে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দমকলবাহিনী জানিয়েছে, ওই সেতুর অংশ ভেঙে পড়েছে একশো মিটার নীচের রেললাইনে। সেতুতে থাকা ট্রাক-গাড়ি মিলিয়ে অন্তত ২০টি যান ভেঙে পড়ে নীচে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, সেতু যখন ভেঙে পড়ে তখন উপরে সাত-আটটি গাড়ি ছুটছে। ট্রাকচালক আলবার্টো লারকারির কথায়, ‘‘হঠাৎ দেখলাম লোকজন আমার দিকে খালি পায়ে ভয় পেয়ে ছুটে আসছে। এর পরে ভয়ঙ্কর চিৎকার। সব মিলিয়ে ভয়াবহ অবস্থা।

ডেভিড রিকি নামে আর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ‘‘আমার গাড়ি থেকে ২০ মিটার দূরে সেতুর অংশ ভেঙে পড়তে দেখলাম। প্রথমে মাঝখানের একটা স্তম্ভ ভাঙল। তার পর সব কিছু হুড়মুড়িয়ে নেমে এল।’’

ইটালির উত্তর-পশ্চিমে জেনোয়া শহরটা সাগর আর পাহাড়ের মাঝখানে। ইটালীয় রিভিয়েরা আর ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলের মাঝের গুরুত্বপূর্ণ অংশের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে অন্য দিন হলে গাড়ির সংখ্যা আরও বেশি থাকত বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। এ দিন সরকারি ছুটি থাকায় ইটালির অনেকেই সমুদ্রসৈকতে বা পাহাড়ে ছুটিকাটাতে গিয়েছেন।

১৯৬৭ সালে তৈরি মোরান্ডি সেতু ৯০ মিটার উঁচু। ২০১৬ সালে এই সেতুতে সংস্কারের কাজ হয়েছিল। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভেঙে পড়ার সময়েও সেতুর অংশে মেরামতি চলছিল। সারাক্ষণই নজর রাখা হচ্ছিল সেতুতে। রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়া মন্টেফুস্কো বলেছেন, ‘‘এখন তত্ত্বকথা আউরে লাভ নেই। কেউ বলছেন, বজ্রপাতে সেতুর কোনও কেব্‌লে আঘাত লেগেছে। কেউ অন্য কারণ খুঁজছেন। ভেঙে প়ড়ার কারণ নিয়ে এখনই কিছু বলা অসম্ভব। ইটালীয় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকে সেতুটি একটা সম্পদ। নয়া প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছিল এটি।’’

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2017 Asiansangbad.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com