শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকায় পূর্ণ সংহতি প্রকাশ নেতাদের উন্নয়ন পেতে হলে নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে: শিল্পমন্ত্রী ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এড স্মিথ। জাপান উ. কোরিয়ার প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট নয় দেশে ফিরেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে ১.৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঝালকাঠিতে কৃষকের মধ্যে সার ও বীজ বিতরণ ইয়াবাসহ যাত্রাবাড়ীতে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার গ্রেফতার ৫ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সাথে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

ভেদরগঞ্জে সাথী ফসল আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা

নির্দিষ্ট ফসলের পরেও অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের ধারণা নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজী (এনএটিপি) প্রকল্প কাজ শুরু করে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে। এ প্রকল্পের আওতায় ভেদরগঞ্জে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ একর জায়গা জুড়ে ১০ জন কৃষক ৭ টি আমবাগান ও ৩ টি মাল্টাবাগান গড়ে তুলেছেন। এছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় পেয়ারাবাগান, কুলবাগানসহ পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন অর্থকরী ফসল আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ। আর এরই মাধ্যমে কৃষরাও কৃষি বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যাবেন। আর এ সাথী ফসল আবাদ এখন স্থানীয় কৃষকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে অতিরিক্ত আয়ের।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের কোড়ালতলি গ্রামের কৃষক বাবুল দালাল তারই অন্যতম নজির। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২.৫ একর জায়গার উপর ৮০০ আ¤্রপালির চারা লাগিয়ে একটি বাগান গড়ে তোলেন তিনি। সাথী ফসল হিসেবে তার আমবাগানের ৪২ শতক জায়গায় ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে উন্নত জাতের টমেটো আবাদ করেন সে। ইতোমধ্যে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। বাজার দর খুব একটা কমে না গেলে আরও ২৫-৩০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রির আশা তার।
কৃষক বাবুল দালাল বলেন, এনএপিপি প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিভাগ আমাকে আমের চারা, সার ও কারিগরি সহায়তা দেয়ায় অতি সহজেই আমি আমবাগানটি গড়ে তুলতে সক্ষম হই। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে আমার আমবাগানে ৪২ শতক জায়গায় উন্নত জাতের টমেটো আবাদ করে উৎপাদন খরচের তুলনায় দুই গুণেরও বেশী লাভবান হই। এখানে আমি টমেটো ছাড়াও মিষ্টি কুমড়া, করলা, মসুর আবাদ করেছি। এভাবে মূল ফসলের সাথে সাথী ফসল আবাদ করে অতিরিক্ত আয় করা যায় এটা আগে জানতাম না। আমার লাভ দেখে আশপাশের অনেক আগ্রহী কৃষক এখন আমার বাগান দেখতে আসছেন ও পরামর্শ নিচ্ছেন। সাথী ফসল আবাদ করে মূল ফসলের সাথে বাড়তি আয়ের সুযোগটি আমাদের জন্য কার্যকর একটি পদ্ধতি। এতে আমাদের কৃষি কাজের লোকসানের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। এবার আমের মুকুল আসলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শে তা ভেঙ্গে দিয়েছি। আশা করছি আগামী মৌসুম থেকে আমের কাংকিত ফলন পাবো।
একই উপজেলার সখীপুর ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ পেদা বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে ২.৫ একর জমির উপর ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে মাল্টা বাগান গড়ে তুলি। বাগানে সাথী ফসল হিসেবে টমেটো ও ফুলকপি চাষ করে ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় করেছি। যোখানে জমি খালি পড়ে থাকতো, সেখানে এ পদ্ধতির কারণে এখন নিয়মিত বাড়তি আয় হচ্ছে। আশা করছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মাল্টা বাজারে বিক্রি করতে পারবো।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহ মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বছর ব্যাপী কৃষকের আয় বাড়াতে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজী (এনএটিপি) প্রকল্প কাজ করছে। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভজনক করতে আমরা মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ, সার-বীজ বিতরণ ও নিয়মিত কারিগরি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছি। যা কৃষিকে অর্থনৈতিকভাবে নিয়ে যাবে অন্য উচ্চতায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..